সমকালীন প্রতিবেদন : আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অবশেষে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। কর্তব্যে চরম গাফিলতি, তদন্তে ‘মিসহ্যান্ডলিং’ এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে সাসপেন্ড করা হলো তিন হেভিওয়েট আইপিএস আধিকারিককে।
শুক্রবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৎকালীন পুলিশ কমিশনার (সিপি) বিনীত গোয়েল (এডিজি আইবি), তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তার সাসপেনশনের কথা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে এই তিন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু করারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে আরজি কর কাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে আরজি করের সেই অভিশপ্ত ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গোড়া থেকেই তীব্র ক্ষোভ ছিল। খুনের ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে স্বচ্ছতার অভাব এবং তদন্তকে ভুল পথে চালিত করার যে অভিযোগ উঠেছিল, তার বিরুদ্ধেই এই কঠোর ব্যবস্থা। এমনকি মৃতার পরিবারকে বেআইনিভাবে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার যে অভিযোগ সামনে এসেছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি, “অন্যায় করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।” এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আরজি করের চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হবে। তড়িঘড়ি তদন্ত শেষ করার যে চেষ্টা আগে হয়েছিল, তার গভীরে গিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জুনিয়র ডাক্তারদের দীর্ঘ আন্দোলনের চাপে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিনীত গোয়েলকে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে এসটিএফ-এর এডিজি পদে বদলি করেছিলেন। একই সঙ্গে সরানো হয়েছিল ডিসি (নর্থ) অভিষেক গুপ্তাকেও।
অন্যদিকে, তৎকালীন ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় সেই সময় পুলিশের ‘মুখ’ হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সামনে তদন্তের সপক্ষে একাধিক বয়ান দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলেন। বিগত জমানায় কেবল পদ বদল করেই দায় সারা হলেও, নতুন জমানায় সরাসরি ‘সাসপেনশন’ ও ‘বিচারবিভাগীয় তদন্তের’ মুখে পড়তে হলো এই তিন অফিসারকে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরজি করের নির্যাতিতার মা বিজেপিতে যোগদান করেন এবং পানিহাটি কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন। নির্বাচনের পর নির্যাতিতার পিতা-মাতা নতুন সরকারের কাছে সুবিচারের এবং ঘটনার ফাইল নতুন করে খোলার যে আবেদন জানিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন