Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

শপথ নিয়ে বনগাঁয় ফিরেই তৃণমূলের গুন্ডাদের উদ্দেশ্যে হুঙ্কার মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার

 

Minister-Ashok-Kirtania

সমকালীন প্রতিবেদন : 'কোনও তৃণমূল নেতার মালা আমি গলায় পড়বো না। তৃণমূলের গুন্ডারা সাবধান হয়ে যান। বিজেপির ভিড়ে মিশে যদি কোনও তৃণমূলের গুন্ডা অশান্তি পাঁকাতে চায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তৃণমূলের কোনও অসৎ নেতা, কর্মীকে দলে জায়গা দেব না।' মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে বনগাঁয় ফিরেই তৃণমূলের গুন্ডাদের উদ্দেশ্যে এমন হুঙ্কার এবং সাবধানবাণী দিলেন মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া।

রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শনিবার বিকেলে নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র বনগাঁয় ফিরলেন বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে এদিন বনগাঁর রাস্তায় উপচে পড়েছিল কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। ফুলের মালা এবং পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর বিশাল এক বর্ণাঢ্য মিছিল ও বাজি পোড়ানোর মধ্য দিয়ে অশোকবাবুকে তাঁর বাসভবন পর্যন্ত পৌঁছে দেন উৎসাহী দলীয় কর্মীরা।

এদিন বনগাঁর মাটিতে পা রেখেই কড়া বার্তা দেন নতুন মন্ত্রী। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আবহে দলে নবাগতদের ভিড় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'যাঁরা কেবল আবির মেখে নব্য বিজেপি সেজেছে, তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিচ্ছি, কোনওরকম অনৈতিক কাজ বরদাস্ত করা হবে না।'‌ তৃণমূল নেতাদের যোগদান প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট জানান, এখনই কোনও তৃণমূল নেতাকে দলে গ্রহণ করবে না বিজেপি। পরবর্তীতে অত্যন্ত স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যক্তিদের কথা দল ভেবে দেখতে পারে, তবে আপাতত সেই দরজা বন্ধ।

নিজের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অশোক কীর্তনীয়া জানান, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো রাজ্যের পাশাপাশি বনগাঁর সার্বিক উন্নয়ন। বিশেষ করে ইছামতী সংস্কার, যশোর রোড সম্প্রসারণের মতো দীর্ঘদিনের বকেয়া কাজ এবং এলাকার অন্যান্য নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধান করাই হবে তাঁর অগ্রাধিকার। পাশাপাশি, মতুয়া এবং উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের অধিকারের প্রশ্নেও সোচ্চার হন তিনি। মন্ত্রী বলেন, 'যাঁরা এখনও নাগরিকত্ব পাননি, তাঁদের সিএএ এর মাধ্যমে দ্রুত নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়াই হবে আমার অন্যতম প্রধান কাজ।'‌

শনিবারের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বনগাঁ শহর জুড়ে ছিল উৎসবের মেজাজ। উৎসাহী দলীয় কর্মীরা এদিন রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে থেকে এলাকার মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। তৃণমূলের বিষয়ে মন্ত্রীর এদিনের কড়া অবস্থান এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।‌





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন