Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

আবহাওয়ার চরম রূপ: উত্তরে প্রাক-বর্ষার বন্যা পরিস্থিতি, দক্ষিণে কালবৈশাখীর মাঝেও লাগামহীন দহন

 

Heat-and-discomfort

সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে আবহাওয়ার ভোলবদল যেন এক গোলকধাঁধা। একই রাজ্যের দুই প্রান্তে দেখা যাচ্ছে প্রকৃতির দুই ভিন্ন রূপ। এক প্রান্তে যখন প্রাক-বর্ষার মেঘে ভাসছে উত্তরবঙ্গ, তখন অন্য প্রান্তে চড়া রোদ আর ঘামঝরানো গরমে নাভিশ্বাস উঠছে দক্ষিণবঙ্গবাসীর। আলিপুর আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে প্রাক-বর্ষার মেঘ ইতিপূর্বেই প্রবেশ করেছে। এর জেরে আগামী বুধবার পর্যন্ত উত্তরের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই খামখেয়ালি আবহাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে একটি শক্তিশালী বায়ুমণ্ডলীয় সিস্টেম। উত্তরপ্রদেশ থেকে মনিপুর পর্যন্ত একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে, যা বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে সোজা দক্ষিণ বাংলাদেশে থাকা একটি ঘূর্ণাবর্তে গিয়ে মিশেছে। এর পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশ থেকে ঝাড়খণ্ডের ওপর দিয়ে ওড়িশা উপকূল পর্যন্ত আরও একটি অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে। এই জোড়া অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলায় বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বঙ্গে প্রবেশ করছে, যার জেরে ওলটপালট হয়ে গেছে গোটা রাজ্যের আবহাওয়া।

উত্তরের জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই বর্ষার আবহ তৈরি হয়ে গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ দিনাজপুরে রেকর্ড ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আজ শুক্রবার থেকে শুরু করে শনি ও রবিবার– এই তিন দিন আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিংয়ের কিছু অংশে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা  জারি করা হয়েছে।

এছাড়া রবিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং উত্তর দিনাজপুরে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি চলবে। সোমবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে তা জারি থাকবে। একটানা এই বৃষ্টির জেরে উত্তরের নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হওয়ার এবং পাহাড়ি অঞ্চলে মারাত্মক ধস নামার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। বৃষ্টির দাপটে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রে চালকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে গরম আর অস্বস্তির পারদ চরমে উঠেছে। খাতায়-কলমে এখনই একে ‘তাপপ্রবাহ’ না বললেও, পশ্চিমের জেলাগুলির পরিস্থিতি সেই দিকেই এগোচ্ছে। বিশেষ করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানে গরম ও অস্বস্তি একেবারে লাগামছাড়া রূপ নেবে। কলকাতা-সহ বাকি জেলাগুলিতে চড়া আর্দ্রতার কারণে দিনভর ঘামে ভিজে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এই চরম গরম থেকে সহজে নিষ্কৃতি মিলবে না।

তবে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যেই সাময়িক স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে কালবৈশাখী। আজ শুক্রবারই বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় কালবৈশাখীর কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। 

রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং সোমবার থেকে এর ব্যাপ্তি আরও বাড়বে। তবে আবহাওয়া অফিস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই কালবৈশাখী ধুলো উড়িয়ে সাময়িকভাবে পারদ কমালেও, আগামী সোম ও মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কোনো স্বস্তির আশ্বাস নেই।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন