সমকালীন প্রতিবেদন : নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে এবার বাস্তবায়নের পথে রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গে নারী ক্ষমতায়ন জোরদার করতে এবং তাঁদের যাতায়াত আরও সুগম ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে এক মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে নবগঠিত বিজেপি সরকার। দিল্লির মডেল অনুসরণ করে এবার এ রাজ্যেও মহিলারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি বাসে সফর করতে পারবেন বলে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্য পরিবহণ দফতরের তরফে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা ও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে এই ঐতিহাসিক পরিষেবা।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা সমস্ত মহিলাই এই সুবিধার আওতায় আসবেন। শুধু শহরের ভেতরের ছোট রুট বা লোকাল বাসই নয়, দূরপাল্লার সমস্ত বড় রুটের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। রাজ্য পরিবহণ নিগমগুলির অধীনস্থ স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি– সব ধরনের ক্যাটাগরির সরকারি বাসেই মহিলারা টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করতে পারবেন।
এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ, নিশ্ছিদ্র এবং আধুনিক রাখতে প্রতিটি সুবিধাভোগী মহিলার জন্য ছবি, নাম ও কিউআর কোড সম্বলিত একটি করে ডিজিটাল ‘স্মার্ট কার্ড’ ইস্যু করবে পরিবহণ দফতর। এই বিশেষ পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ডটি পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করতে হবে। মহিলারা তাঁদের নিজ নিজ এলাকার বিডিও অফিস অথবা মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে এই কার্ডের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।
ডিজিটাল স্মার্ট কার্ডটি পাওয়ার জন্য সাম্প্রতিক তোলা এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবির সাথে যেকোনো একটি সরকারি নথির জেরক্স জমা দিতে হবে। আর সেগুলি হল– আধার কার্ড অথবা ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড অথবা পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গ্রামীণ কর্মসংস্থান জব কার্ড (১০০ দিনের কাজ), আয়ুষ্মান ভারত হেলথ কার্ড, ছবিসহ পেনশনের নথিপত্র, স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল পরিচয়পত্র।
যেহেতু আগামী ১ জুন থেকেই এই পরিষেবা পুরোদমে চালু হয়ে যাচ্ছে, তাই সমস্ত আবেদনকারীর হাতে স্মার্ট কার্ড পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সাধারণ মহিলা যাত্রীদের যাতে কোনো প্রকার হেনস্থা বা অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়, তার জন্য নবান্নের তরফে বিশেষ বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নির্দিষ্ট স্মার্ট কার্ডটি হাতে না আসা পর্যন্ত মহিলারা বাসে কর্তব্যরত কন্ডাক্টরকে তাঁদের যেকোনো একটি বৈধ সরকারি ফটো আইডি প্রুফ (যেমন: আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড) দেখালেই চলবে। কন্ডাক্টর সেই পরিচয়পত্রটি যাচাই বা ভেরিফিকেশন করার পর ওই মহিলা যাত্রীকে একটি ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ বা থার্মাল পেপার টিকিট ইস্যু করবেন। এই টিকিটটির জন্য যাত্রীকে কোনো টাকা দিতে হবে না। সরকারের এই জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের জেরে রাজ্যজুড়ে সাধারণ নারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও খুশির হাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন