সমকালীন প্রতিবেদন : সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে এবং অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের বার্তা নিয়ে এক অভিনব কর্মসূচির আয়োজন করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের পরিচালনাধীন 'মেডিকেল সেবা সমিতি'-র উদ্যোগে বনগাঁর রেটপাড়া আমতলা এলাকায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে হনুমান পুজোর পাশাপাশি বিশিষ্ট চিকিৎসকদের একটি সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।
এদিনের উৎসবের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও আকর্ষণীয় দিকটি ছিল পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। চিরাচরিত প্রথা ভেঙে সমাজের পিছিয়ে পড়া হরিজন সম্প্রদায়ের পাঁচজন প্রবীণ নাগরিক প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে এই মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হিন্দু সমাজের বুক থেকে জাতপাতের ভেদাভেদ ও অস্পৃশ্যতার গ্লানি মুছে ফেলে একটি সুদৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠন করাই ছিল এই ব্যতিক্রমী ভাবনার মূল উদ্দেশ্য। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুষ্পিতা শীলের সুমধুর কণ্ঠের সঙ্গীত উপস্থিত দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের সামাজিক অবদানকে কুর্নিশ জানিয়ে তাঁদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এই গৌরবময় সম্বর্ধনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডাঃ কৃষ্ণচন্দ্র গড়াই, ডাঃ স্বাগত দাস, ডাঃ অমিত চক্রবর্তী, ডাঃ স্বপন মন্ডল, ডাঃ অপূর্ব অধিকারী, ডাঃ অম্লান দে, ডাঃ মহীতোষ মন্ডল।
অনুষ্ঠানটিকে সফল করতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন সংগঠনের জেলা সম্পাদক দেবব্রত মল্লিক এবং বনগাঁ প্রখন্ডের সম্পাদক রাজীব গোস্বামী। এছাড়াও এলাকার বহু বিশিষ্ট সমাজসেবী ও অগণিত ধর্মপ্রাণ মানুষ এই মহতী অনুষ্ঠানে শামিল হন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের পদাধিকারীরা জানান, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সমস্ত শ্রেণির মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে একটি শক্তিশালী ও সেবামূলক সমাজ গড়ে তোলাই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মূল লক্ষ্য এবং আগামীদিনেও তাঁদের এই ধরণের সামাজিক ও জনকল্যাণমুখী প্রয়াস জারি থাকবে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন