Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

সীমান্ত সুরক্ষায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: কাঁটাতারের জন্য বিএসএফ-এর হাতে জমি তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

 

Handover-of-Land-to-BSF

সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর জাতীয় সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ রুখতে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল নবগঠিত বিজেপি সরকার। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও আইনি জট কাটিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী-র হাতে জমি হস্তান্তর করল রাজ্য। বুধবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ উদ্যোগকে সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় ‘মাইলফলক’ হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।

ক্ষমতায় আসার মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই এই জমি হস্তান্তর করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, তাঁর সরকার সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বৈঠক শেষে একযোগে কাজ করার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক দিন পর বিএসএফ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এক হয়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রথম দফার ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করল। একটি দেশাত্মবোধক সরকার আসার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই বকেয়া কাজ সম্পন্ন করতে পারল।

এদিনের বৈঠক থেকে পূর্বতন রাজ্য সরকারের নীতি ও উদাসীনতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ভারতের মোট ৪,০০০ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ২,২০০ কিলোমিটার। অন্য রাজ্যগুলি অনেক আগেই জমি হস্তান্তর করে কাঁটাতারের কাজ শেষ করলেও বাংলায় রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে তা আটকে ছিল।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আমাদের রাজ্যে ১,৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে ফেন্সিং থাকলেও বাকি ৬০০ কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫৫৫ কিলোমিটার এলাকা পূর্বতন সরকার চাইলেই দিতে পারত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন তৎকালিন রাজ্য প্রশাসনকে একাধিকবার চিঠি লিখলেও কোনও লাভ হয়নি। সীমান্তে কাঁটাতারে অনীহা ছিল আগের সরকারের। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই দীর্ঘদিনের জট কাটালো।

সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতে মূলত দুই ধরণের জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৯টি জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মোট ৩২ একর সরকারি খাস জমি। অন্যদিকে ৫টি জেলায় মোট ৪৩ একর ব্যক্তিগত জমি কেনা হয়েছে। এই সরকারি ও ব্যক্তিগত জমি মিলিয়ে প্রথম দফায় মোট ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করা হয়েছে, যার সম্পূর্ণ আর্থিক দায়ভার বহন করবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

রাজ্য সরকারের এই দ্রুত ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিএসএফ কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে উপস্থিত বিএসএফ-এর ডিজি জানান, জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জরুরি ছিল। জমি মেলায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো যাবে এবং অনুপ্রবেশ ও পাচার পুরোপুরি রুখে দেওয়া সম্ভব হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর প্রধান হাতিয়ারই ছিল অনুপ্রবেশ ইস্যু। ক্ষমতায় এসেই সেই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালনে নেমে পড়ল রাজ্যের বিজেপি সরকার। নারী ও শিশু সুরক্ষা, বলপূর্বক ধর্মান্তকরণ রুখতে সীমান্ত নিশ্ছিদ্র করার পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ (চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার) আইন চালুর ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

নবান্ন সভাঘর থেকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত নন, তাঁরাই অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের চিহ্নিত করে রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করবে এবং সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। নবান্নের এই যৌথ ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক নতুন যুগে পদার্পণ করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন