Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

জমির জট কেটে দ্রুত বসবে কাঁটাতার, অনুপ্রবেশকারীদের দেশ ছাড়ার কড়া হুঁশিয়ারি খাদ্যমন্ত্রীর

 

Border-Inspection

সমকালীন প্রতিবেদন : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারহীন এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ রুখতে এবং দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। জমি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সীমান্ত সিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন কালিয়ানি এলাকা পরিদর্শনে যান রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। সেখান থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি, সীমান্ত সুরক্ষায় জমি দেওয়া গ্রামবাসীদের ন্যায্য মূল্যের আশ্বাসও দেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটি বড় অংশে কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব হয়নি। তথ্য অনুযায়ী, এখনও প্রায় ৫৩৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা কাঁটাতারহীন অবস্থায় রয়েছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাতের অন্ধকারে অবাধে চলছে অনুপ্রবেশ। সীমান্ত লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাঁটাতার না থাকায় তাঁরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটান। বাংলাদেশ থেকে দুষ্কৃতীরা এসে প্রায়ই গবাদি পশু চুরি, জমির ফসল কেটে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটায়। 

তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই এই সীমান্ত সিল করার প্রক্রিয়া যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করেছে নতুন সরকার। বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের কাজও পুরোদমে চলছে। এদিন সকালে পেট্রাপোল সীমান্তের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ মন্ত্রীকে স্পষ্ট জানান, দেশের সুরক্ষার স্বার্থে জমি দিতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তবে তাঁরা জমির সঠিক ও ন্যায্য মূল্য চান। 

গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, "দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনওরকম সমঝোতা করা হবে না। জমির দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা হবে না, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই জেলাশাসকের সঙ্গে আমার বিশদ কথা হয়েছে।" তবে বসিরহাট মহকুমার তিনটি মৌজায় জমি নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। সেখানে প্রশাসনিকভাবে কথা বলে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিন অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, "তৃণমূলের মদতে ও কারসাজিতে এসআইআর-এর সময় যে সমস্ত অনুপ্রবেশকারী তালিকায় নাম তুলে ভারতীয় সেজে এ দেশে লুকিয়ে বাস করছে, তাদের সাবধান করছি। সীমান্তে এখনও অনেক জায়গায় কাঁটাতার লাগানো বাকি রয়েছে। সেই সুযোগে রাতের অন্ধকারেই তারা বাংলাদেশে ফিরে যাক। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

রাজ্য সরকারের এই তৎপরতা এবং বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হওয়ায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। কাঁটাতারের কাজ সম্পূর্ণ হলে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত অপরাধ চিরতরে বন্ধ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষজন।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন