Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

নারী ক্ষমতায়নে নয়া মাইলফলক: দেশজুড়ে কার্যকর হলো ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’

 

Women-Empowerment-Act

সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়ের সূচনা হলো। ১৬ এপ্রিল থেকে সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বলবৎ হয়েছে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা নারী সংরক্ষণ আইন ২০২৩। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিষয়টি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি ভিত্তি পেল।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে এই বিলটি পাশ হলেও এর কার্যকর হওয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার সম্ভাবনা ছিল। মূল আইনে শর্ত ছিল যে, নতুন জনগণনা এবং তার পরবর্তী আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। 

কিন্তু বর্তমানে সরকার সংবিধান সংশোধন করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই এই সুবিধা কার্যকর করতে চাইছে। শুক্রবার সংসদে আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত নতুন সংশোধনী বিল নিয়ে ভোটাভুটির আগেই গত বছরের পুরনো আইনটিকে কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

সরকার যখন এই আইন কার্যকর করার পথে এগোচ্ছে, তখন সংসদে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাগ্‌যুদ্ধ চলছে। বিরোধীদের মূল আপত্তি সরকারের আসন পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি নিয়ে। বিশেষ করে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে বা বর্তমান আসনের অনুপাতে পুনর্বিন্যাস করার সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত এই নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক চলে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পদ্ধতিগত কারণেই পুরনো আইনটি আগে কার্যকর করা প্রয়োজন ছিল, যাতে নতুন সংশোধনী পাশ হলে তা দ্রুত রূপায়ণ করা যায়।

আইনটি আজ থেকে কার্যকর হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে এর প্রয়োগে কিছুটা সময় লাগবে। সরকারি আধিকারিকদের মতে, সংরক্ষণের সুবিধা পেতে দুটি প্রধান ধাপ অতিক্রম করতে হবে। সেগুলি হল– ২০২৭ সালের সম্ভাব্য জনগণনা সম্পন্ন করা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শেষ করা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই আইনকে নারী ক্ষমতায়নের পথে এক বিশাল জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০৩৪ সালের বদলে ২০২৯ সাল থেকেই যাতে নারীরা আইনসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন লাভ করতে পারেন, সরকার এখন সেই লক্ষ্যেই অগ্রসর হচ্ছে। ডিলিমিটেশন ও জনগণনার জটিলতা কাটিয়ে কবে প্রকৃত অর্থে দেশের আইনসভাগুলিতে নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন