সমকালীন প্রতিবেদন : হারটাই যেন অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ইডেন গার্ডেন্স থেকে শুরু করে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম– মাঠ বদলাচ্ছে, প্রতিপক্ষ বদলাচ্ছে, কিন্তু বদলাচ্ছে না কেকেআরের ভাগ্য। চলতি আইপিএলে রবিবারের আগে পর্যন্ত নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচেও জয়ের মুখ দেখতে ব্যর্থ অজিঙ্কা রাহানেরা। শুক্রবার গুজরাট টাইটান্সের কাছে ৫ উইকেটে পর্যুদস্ত হওয়ার পর এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। এই হারের ফলে আইপিএলের ইতিহাসে পঞ্চম দল হিসেবে মরসুমের প্রথম ছয়টি ম্যাচে জয়হীন থাকার এক লজ্জাজনক নজির গড়ল কলকাতা।
আইপিএলের দীর্ঘ ইতিহাসে খুব কম দলই এমন শোচনীয় শুরুর সাক্ষী থেকেছে। ২০১২ সালে তৎকালীন ডেকান চার্জার্স প্রথম ছয় ম্যাচে জয় না পেয়ে এই কলঙ্কিত রেকর্ডের সূচনা করেছিল। এরপর ২০১৩ সালে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, ২০১৯ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং ২০২২ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এই একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল। এবার সেই তালিকার পঞ্চম দল হিসেবে নাম লেখাল কেকেআর। ৬টি ম্যাচের মধ্যে ৫টিতেই হার এবং একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যাওয়ায় মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের একদম তলানিতে (১০ নম্বরে) পড়ে রয়েছে শাহরুখ খানের দল।
আহমেদাবাদে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেও নাইট ব্যাটাররা চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দেন। দলের কোনো বিভাগেই ন্যূনতম ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ের ব্যর্থতা তো ছিলই, তার ওপর যোগ হয়েছে লক্ষ্যহীন অধিনায়কত্ব। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ শিবিরের শুভমান গিল যেন একাই নাইটদের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিলেন। তাঁর অনবদ্য ইনিংসের সামনে কলকাতার বোলাররা কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করেন। আহমেদাবাদের গ্যালারি যখন গিলের ব্যাটে উৎসব করছে, তখন কলকাতার ডাগআউটে ছিল কেবল বিষণ্ণতা।
এবারের মরসুম শুরুর আগে থেকেই অজিঙ্ক রাহানেকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁর ওপর ভরসা করেছিল কেকেআর ম্যানেজমেন্ট। মাঠের পারফরম্যান্স সেই সিদ্ধান্তকেই এখন কাঠগড়ায় তুলছে। ব্যাটিংয়ে ওপেনিং জুটি থেকে শুরু করে লোয়ার অর্ডার—কোথাও কোনো ভরসাযোগ্য নাম উঠে আসছে না। এর ওপর লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছাড়া আর কোনো ম্যাচেই জয়ের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেননি কেকেআর ক্রিকেটাররা। বৃষ্টির সৌজন্যে পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে পাওয়া ১ পয়েন্টটুকুই এখন কেকেআরের একমাত্র সম্বল।
টানা পাঁচটি হার এবং একটি অমীমাংসিত ম্যাচের পর কেকেআরের প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনা এখন কার্যত অলৌকিক কোনো ঘটনার ওপর নির্ভরশীল। টুর্নামেন্টের মাঝপথে দাঁড়িয়ে দলের এই ছন্নছাড়া অবস্থা দেখে ভক্তদের মনেও চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটিং, বোলিং এবং নেতৃত্ব—তিন বিভাগেই আইপিএলের বাকি নয়টি দলের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে কলকাতা। যদি দ্রুত কোনো আমূল পরিবর্তন না আনা হয়, তবে এবারের মরসুমটি কেকেআরের ইতিহাসে দীর্ঘতম দুঃস্বপ্ন হয়ে থেকে যাবে।
আজকের ম্যাচ সহ আগামী ম্যাচগুলোতে জয় না ফিরলে কেবল প্লে-অফ নয়, সম্মান বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়বে নাইটদের জন্য। শনির দশা কাটিয়ে নাইটরা আজ, রবিবারের ম্যাচে কি আলোর মুখ দেখবে, কিছুক্ষণ পর সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন