সমকালীন প্রতিবেদন : রবিবার ঝাড়গ্রামের নির্বাচনী প্রচারে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও মানবিক রূপে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একদিকে যখন জনসভার মঞ্চ থেকে তৃণমূলের কড়া সমালোচনা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন, অন্যদিকে ঝাড়গ্রামের রাজপথে এক সাধারণ দোকানদারের হাতে তৈরি ঝালমুড়ি খেয়ে উপস্থিত জনতাকে চমকে দিলেন তিনি।
এদিন ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামের সভা থেকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়ান প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার বিদ্যুৎ পরিষেবা ও 'সিন্ডিকেট রাজ' নিয়ে তোপ দাগেন তিনি। মোদী বলেন, "এখানে বিদ্যুৎ একবার গেলে আসার নাম নেয় না, অথচ নিয়মিত মোটা টাকার বিল চলে আসে। তৃণমূলের সিন্ডিকেটের কারণেই বাংলার আজ এই দশা।" তিনি আরও সংকল্প প্রকাশ করেন যে, সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রাখা এবং জনগণের সম্পদ লুটেরাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। প্রত্যেক দুর্নীতির হিসাব নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানান তিনি।
রাজনৈতিক আক্রমণের পর্ব চুকিয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন হেলিপ্যাডের দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই ঘটে এক অভাবনীয় ঘটনা। ঝাড়গ্রাম শহরের ব্যস্ততম কলেজ মোড়ে নিজের কনভয় থামিয়ে গাড়ি থেকে নেমে আসেন তিনি। প্রথাগত কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনী সরিয়ে রাস্তার ধারের একটি সাধারণ দোকানে বাংলার অতি প্রিয় 'ঝালমুড়ি' খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে কাগজের ঠোঙায় মশলাদার মুড়ি উপভোগ করার সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়। সূত্রের খবর, মুড়ি খাওয়ার পর দোকানদারকে নিজ হাতে ১০ টাকা দামও মেটান তিনি। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে হাতের নাগালে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
যে দোকানে প্রধানমন্ত্রী আকস্মিক বিরতি নিয়েছিলেন, সেই দোকানের মালিক বিক্রম কুমার সাহু কার্যত বাকরুদ্ধ। আদতে বিহারের বাসিন্দা হলেও তাঁদের পরিবার দীর্ঘকাল ধরে ঝাড়গ্রামেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। বিক্রম জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর দোকানের মুড়ি খেয়ে শুধু প্রশংসাই করেননি, বরং তাঁর পরিবারের খোঁজখবরও নিয়েছেন। "আজকের দিনটি আমার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে," বলেন আবেগপ্রবণ বিক্রম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মোদীর এই অনাড়ম্বর 'মুড়ি-কূটনীতি' আসলে সাধারণ ভোটারদের মনের আরও কাছাকাছি পৌঁছানোর একটি কৌশল। মঞ্চের কড়া রাজনৈতিক বার্তার পর এই সহজ ও সহজাত জনসংযোগ ঝাড়গ্রামের সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, প্রচারের ব্যস্ততার মাঝে রবিবাসরীয় ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর এই ঝালমুড়ি পর্ব খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন