সমকালীন প্রতিবেদন : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া কয়েক লক্ষ মানুষ ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্র সাপেক্ষে আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। সাধারণত মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা স্থির করে দিলেও, এবার সেই প্রথা ভেঙে ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ করে দিল শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপকে ‘ব্যতিক্রমী’ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল যদি নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে পর্যন্তও কোনো আবেদনকারীকে বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে তিনি ভোটদানের সুযোগ পাবেন। তবে এক্ষেত্রে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, শুধুমাত্র আবেদন করলেই হবে না; ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়া আবশ্যিক। যদি ট্রাইব্যুনাল কোনো আবেদনকারীর নাম বাতিলের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।
রাজ্যে প্রথম দুই দফার ভোটের জন্য আদালত নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট। রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রের যে সমস্ত ভোটারদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ২১ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল ছাড়পত্র দিলে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ভোট। এই দফার ক্ষেত্রে আবেদনের নিষ্পত্তির শেষ সময়সীমা রাখা হয়েছে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত।
রাজ্যে প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছিল। এর মধ্যে বিবেচনাধীন বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণে ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির একটি শক্তিশালী ‘আপিল ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের খসড়া তালিকা অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম যাচাই-প্রক্রিয়াধীন ছিল। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের তৎপরতায় ইতিমধ্যে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম ভোটার তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন এখনও বাদ রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এই রায়ের ফলে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের সামনে আবারও বৈধভাবে ভোটার তালিকায় ফেরার পথ প্রশস্ত হলো।
নির্বাচনের প্রাক্কালে আদালতের এই হস্তক্ষেপে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যেমন চড়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে শীর্ষ আদালতের এই ‘বিশেষ নির্দেশিকা’ ভারতীয় নির্বাচনী ইতিহাসে এক অনন্য নজির হয়ে থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে যাতে যোগ্য ভোটাররা তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন