সমকালীন প্রতিবেদন : ক্রিকেট বিশ্ব যেন ১৯৮৯ সালের এক মাহেন্দ্রক্ষণের পুনর্জন্ম দেখল। সেদিন করাচিতে ১৬ বছরের এক কিশোর শচীন তেণ্ডুলকর দাপট দেখিয়েছিলেন কিংবদন্তি আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী যেন সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন। প্রতিপক্ষ যখন বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার জসপ্রীত বুমরা, তখন অভিজ্ঞ ব্যাটাররাও যেখানে ক্রিজে টিকে থাকতে হিমশিম খান, সেখানে বৈভব রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া।
বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ১১ ওভারের লড়াইয়ে যখন বুমরা তাঁর স্পেল শুরু করলেন, গ্যালারিতে তখন প্রবল উত্তেজনা। বুমরা ইয়র্কার দেওয়ার চেষ্টা করলেও বৈভবের ব্যাটে তা অবলীলায় মাঠের বাইরে আছড়ে পড়ে। সেই ওভারে দুটি ছক্কা হজম করে বুমরার মুখে শুধু এক টুকরো হতাশার হাসি ফুটে উঠল। ১৪ বলে ৩৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংসে ৫টি ছক্কা ও ১টি চারের সৌজন্যে রাজস্থানকে মজবুত ভিত গড়ে দেন এই কিশোর। রোহিত শর্মা ও হার্দিক পাণ্ডিয়াদের বিস্মিত চাহনিই বলে দিচ্ছিল, তাঁরা এক অসাধারণ প্রতিভার উত্থান দেখছেন।
অর্ধশতরান না পেলেও এই ম্যাচেই আইপিএলের ইতিহাসের একাধিক বড় রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন বৈভব। ২০ বছরের কম বয়সে আইপিএলে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার নজির এত দিন যৌথভাবে ঋষভ পন্থ ও ঈশান কিষানের দখলে ছিল (৩০টি করে)। মঙ্গলবার তাঁদের ছাপিয়ে আইপিএল কেরিয়ারে মোট ৩৫টি ছক্কা পূর্ণ করলেন বৈভব।
কম বলের ব্যবধানে ছক্কা মারার নজির তৈরি হলো। অন্তত ২০ বল খেলার নিরিখে আইপিএলে প্রতি ৪.৯ বলে একটি করে ছক্কা মেরে তিনি টপকে গিয়েছেন রোমারিও শেফার্ড (৫.১ বল) এবং আন্দ্রে রাসেলকেও (৬.৮ বল)। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যে কোনো প্রথম সারির টি-টোয়েন্টি লিগে সবচেয়ে বেশি রানের (৩৩৫ রান) রেকর্ড এখন তাঁর দখলে।
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শিবিরেও ছিল শুধু বৈভবের জয়গান। অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া তাঁকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "বৈভব প্রচণ্ড সাহসী, ওর খেলা দেখতেও দারুণ লাগে।" মুম্বই কোচ মাহেলা জয়বর্ধনেও বৈভবের বোলারদের শাসন করার দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
২০৩১ সালের আগে বৈভবের বয়স ২০ বছর পূর্ণ হবে না। অর্থাৎ, বয়সভিত্তিক এই রেকর্ডগুলো আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর হাতে আরও অন্তত চারটি আইপিএল মরসুম রয়েছে। নিজের এই সাফল্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মাত্র তিনটি শব্দে বৈভব লিখলেন– ‘সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ’। এই সংক্ষিপ্ত বার্তাতেই যেন লুকিয়ে আছে এক বড় লক্ষ্যের প্রত্যয়। কিশোর থেকে মহাতারকা হয়ে ওঠার এই যাত্রায় বৈভব সূর্যবংশী এখন ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন