সমকালীন প্রতিবেদন : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে উত্তরবঙ্গ থেকেই বঙ্গে প্রচার অভিযান শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার কোচবিহারের ঐতিহাসিক রাসমেলার ময়দানে আয়োজিত ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে তিনি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এদিন মূলত স্থান পেয়েছে মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের নিগ্রহের ঘটনা, অনুপ্রবেশ সমস্যা এবং নারী সুরক্ষার বিষয়টি। মোদী স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, “গোটা বাংলায় একটাই আওয়াজ– পরিবর্তন দরকার।”
সম্প্রতি মালদহের কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাতজন বিচারককে দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী এদিন তৃণমূলকে বেনজির আক্রমণ করেন। তিনি এই ঘটনাকে স্রেফ বিশৃঙ্খলা হিসেবে দেখতে নারাজ, বরং একে তৃণমূলের ‘পরিকল্পিত মহাজঙ্গলরাজ’ বলে অভিহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, “যে রাজ্যে বিচারক এবং সংবিধান সুরক্ষিত নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” তিনি অভিযোগ করেন, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর এই হামলা আসলে বিচারব্যবস্থার মনোবল ভেঙে দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র।
উল্লেখ্য, এই মামলার গুরুত্ব বিচার করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার গ্রহণ করেছে এনআইএ। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত আইনজীবী মফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল মালদহে পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।
কোচবিহারের এই সভায় প্রধানমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন গ্রেটার নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা ও চিলা রায়ের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী রাজবংশী আবেগকেও ছুঁতে চেয়েছেন। তিনি এদিন কোচবিহার জেলার ৯টি আসনের প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। মোদী বলেন, “ব্রিগেড ময়দান থেকেই পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা দেখে তৃণমূল আতঙ্কিত। কোচবিহারের এই জনসমুদ্র প্রমাণ দিচ্ছে যে মানুষের মনে তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাটমানি এবং সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ তুলে মোদী উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, ভোটব্যাংকের স্বার্থে তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তাঁর কথায়, “তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজেপির উন্নয়নই একমাত্র ভরসা।”
নারী সুরক্ষা নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী ‘মোদী কি গ্যারান্টি’-র কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি জানান, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে মহিলারা নির্ভয়ে বাস করতে পারবেন। মোদী উল্লেখ করেন যে, লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৬ শতাংশ আসন সংরক্ষণের যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নারী শক্তির অধিকার সুনিশ্চিত করবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৪ মে-র পর আইন নিজের পথে চলবে এবং অপরাধীদের প্রতিটি পাপের হিসাব নেওয়া হবে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই সফর এবং মালদহ কাণ্ডে এনআইএ-র সক্রিয়তা– সব মিলিয়ে ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। মোদীর এই ‘মহাজঙ্গলরাজ’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা কী অবস্থান নেয়, এখন সেটাই দেখার।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন