Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

ইডেনে হারের ক্ষত ও গ্রিন-রহস্য: চিপকে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে ছন্নছাড়া নাইট শিবির

 ‌

Disorganized-Knights-Camp

সমকালীন প্রতিবেদন : টানা হারের ধাক্কায় যেকোনো দলের আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকে যাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু বৃহস্পতিবার ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতা নাইট রাইডার্স যেভাবে পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে, তা কেবল হার নয়‌, এক গভীর ট্রমা। জয়ের মুখ থেকে মুকুল চৌধুরীর একক দাপটে ম্যাচ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা নাইট শিবিরে যে ‘হ্যাংওভার’ তৈরি করেছে, তা কাটিয়ে ওঠাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আন্দ্রে রাসেল বা অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানেদের শরীরী ভাষায় সেই বিধ্বস্ত হওয়ার ছাপ স্পষ্ট।

এবারের আইপিএলে কেকেআরের প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের বোলিং বিভাগ ও আকাশছোঁয়া দামি ক্রিকেটারদের ফর্ম। ২৫.৬০ কোটি টাকার রেকর্ড মূল্যে কেনা ক্যামেরন গ্রিন এখনও পর্যন্ত দলের জন্য ‘সাদা হাতি’ হয়েই রয়ে গিয়েছেন। প্রথম তিন ম্যাচে তাঁকে বল হাতে দেখাই যায়নি, আর ব্যাটিংয়েও তিনি সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ। 

ক্যামেরন গ্রিন লখনউয়ের বিরুদ্ধে বল হাতে নিলেও ২ ওভারে ২৬ রান দিয়ে কার্যত ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ করেছেন। চোট-আঘাতের সমস্যার কারণে প্রায় দ্বিতীয় সারির পেস অ্যাটাক নিয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে কলকাতাকে, যা প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের কাজ সহজ করে দিচ্ছে।

হারের পাশাপাশি অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের রণকৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে। পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত অনেককেই অবাক করেছিল। একইভাবে লখনউয়ের বিরুদ্ধে ডেথ ওভার আসার অনেক আগেই অভিজ্ঞ সুনীল নারিনের ওভার শেষ করে দেওয়া কিংবা গ্রিনকে ছন্দে ফেরার সুযোগ না দিয়ে মাত্র এক ওভার বল করানো– এই সমস্ত ‘অদ্ভুত’ সিদ্ধান্ত রাহানেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। 

অধিনায়ক নিজেও স্বীকার করেছেন যে, ইডেনের এই হার মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। কলকাতা ছেড়ে শনিবার বিকেলেই চার্টার্ড ফ্লাইটে চেন্নাই পৌঁছে গেছে নাইট বাহিনী। চিপকের মাঠে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস। অদ্ভুতভাবে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের দলের অবস্থাও কেকেআরের মতোই শোচনীয়। তারাও টানা হারের কবলে। 

কেকেআর সমর্থকরা আশায় ছিলেন যে লঙ্কান পেসার মাথিশা পাথিরানা হয়তো চেন্নাইয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। কিন্তু কেকেআর শিবিরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, তাঁর আসা নিয়ে এখনও কোনও নিশ্চয়তা নেই। প্রথম চারটি ম্যাচে কেকেআরের বোলিং বিভাগ যেভাবে রান বিলিয়ে দিচ্ছে, তাতে সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। 

সঠিক টিম কম্বিনেশন খুঁজে না পাওয়া এবং প্রধান প্লেয়ারদের অফ-ফর্ম নাইটদের প্লে-অফের স্বপ্নকে শুরুতেই ধাক্কা দিচ্ছে। এখন দেখার, চিপকের ঘূর্ণি পিচে অজিঙ্কা রাহানে নিজের প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠে কেকেআর-কে জয়ের সরণিতে ফেরাতে পারেন কি না। মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও এখন নাইটদের কাছে বড় লড়াই হলো নিজেদের মানসিক বাধা কাটিয়ে ওঠা।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন