সমকালীন প্রতিবেদন : ২৯ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে চলতি আইপিএল মরশুম। প্রথম সপ্তাহেই ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছে একাধিক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। দুর্দান্ত ইনিংস আর আগুনে বোলিংয়ে নজর কেড়েছেন বিরাট কোহলি ও মহম্মদ শামির মতো তারকারা। কিন্তু একই সময়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন কয়েকজন বড় নামের ক্রিকেটার, যাঁরা এই সাত দিনে পুরোপুরি ফ্লপ করে গেছেন। প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় তাঁদের নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। চলুন জেনে নিই বিস্তারিতভাবে, কারা রয়েছেন এই হতাশার তালিকায়।
আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা ক্যামেরন গ্রিন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি প্রত্যাশা পূরণে একেবারে ব্যর্থ। প্রথম ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ১০ বলে মাত্র ১৮ রান করতে পেরেছেন। এরপর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সঙ্গে লড়াইয়ে তো আরও করুণ অবস্থা– মাত্র ২ রানে আউট হয়ে যান। এখনও পর্যন্ত একটি ওভারও বোলিং করার সুযোগ পাননি তিনি। ফলে দলের বড় ইনভেস্টমেন্ট হয়েও এই অস্ট্রেলিয়ানকে ফ্লপের তালিকায় রাখতেই হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সঞ্জু এবার চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) জার্সিতে একেবারে ছন্দহীন। প্রথম তিন ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৬, ৭ ও ৯ রান– অর্থাৎ মোট ২২ রান। এই পারফরম্যান্স দেখে উঠছে প্রশ্ন, তাঁকে আদৌ ওপেনিংয়ে সুযোগ দেওয়া উচিত কি না। বিশ্বকাপের নায়ক হয়েও আইপিএলে এভাবে ফ্লপ হওয়ায় সিএসকে ভক্তদের মনে চিন্তার ছায়া পড়েছে।
কেকেআরের হয়ে একসময় ম্যাচ জেতানোর অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিলেন বরুণ চক্রবর্তী। কিন্তু বিশ্বকাপের শেষ পর্ব থেকেই তাঁর ফর্ম একেবারে তলানিতে। চলতি মরশুমেও সেই ছন্দ ফেরেনি। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে চার ওভারে ৪৮ রান খরচ করেছেন, সানরাইজার্সের সঙ্গে দুই ওভারেই ৩১ রান দিয়েছেন। অথচ কোনো ম্যাচেই একটি উইকেটও তুলতে পারেননি। ফলে একদা ‘ম্যাচ উইনার’ বরুণ এখন দলের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
পাঞ্জাব কিংসের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচে একেবারে হতাশ করেছেন অর্শদীপ সিং। গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে চার ওভারে ৪২ রান দিয়ে লজ্জার নজির গড়েন। এক ওভারে ১১ বল করতে হয়েছে তাঁকে। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধেও চার ওভারে ৪১ রান খরচ করেছেন। দুই ম্যাচেই কোনো উইকেট নেই। ভারতীয় বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা হয়েও এই পারফরম্যান্সে পাঞ্জাবের বোলিং ইউনিটকে দুর্বল করে দিয়েছেন তিনি।
দিল্লি ক্যাপিটালসের জার্সিতে ভারতের আরেক তারকা ক্রিকেটারও একেবারে ছন্দহীন। দুই ইনিংসে মাত্র এক রান করেছেন তিনি। ইনিংস গড়া ও পার্টনারশিপ তৈরির দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে, কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন রাহুল। ফলে দিল্লির টপ অর্ডারে দেখা দিয়েছে বড় ফাঁক।
প্রথম সপ্তাহ শেষে এই ফ্লপ পারফরম্যান্সগুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে, আইপিএলের মতো চাপের টুর্নামেন্টে কেউই নিরাপদ নয়। বড় দামি ক্রিকেটার হলেই যে সাফল্য আসবে, এমন নয়। এখন দেখার বিষয়, পরের ম্যাচগুলোয় এঁরা কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। অন্যথায় দলগুলোর পরিকল্পনায় বড় রদবদল আসতে বাধ্য।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন