সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতীয় ক্রিকেটে কি তবে শুরু হতে চলেছে এক নতুন রাজত্বের? জল্পনাটা উসকে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় পা রাখার আইনি যোগ্যতা অর্জন করে ফেললেন বিহারের ১৫ বছর বয়সি ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ২০২০ সালের নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ বছর বয়স না হলে কোনো ক্রিকেটার সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। বৈভব সেই গণ্ডি পার করতেই এখন প্রশ্ন উঠছে, তবে কি খুব শীঘ্রই সূর্যকুমার যাদব বা শুভমন গিলদের সাজঘরে দেখা যাবে এই কিশোর প্রতিভাকে?
ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেকের রেকর্ডটি এখনও ‘মাস্টার ব্লাস্টার’ সচিন তেন্ডুলকরের দখলে। ১৯৮৯ সালে করাচি টেস্টে যখন তিনি মাঠে নেমেছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর ২০৫ দিন। বৈভব যেহেতু ইতিমধ্যেই ১৫ পূর্ণ করেছেন, তাই নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর যদি মনে করেন, তবে সচিনের সেই বহু পুরনো নজির ভেঙে দেওয়ার সুযোগ থাকছে বৈভবের সামনে।
যদিও পাকিস্তানের হাসান রাজার (১৪ বছর ২২৭ দিন) বিশ্বরেকর্ডটি অক্ষত থাকছে আইসিসি-র বর্তমান কড়াকড়ির কারণে। তবে আইসিসি জানিয়েছে, বিশেষ মেধা ও শারীরিক সক্ষমতা থাকলে ১৫ বছরের সামান্য কম বয়সিদের ক্ষেত্রেও বিবেচনা করা হতে পারে, কিন্তু বৈভবের ক্ষেত্রে সেই জটিলতার আর প্রয়োজন নেই।
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকেই বৈভব নিজের জাত চিনিয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে অনবদ্য ১৭৫ রান, যা ভারতকে বিশ্বজয়ী করতে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিল। এ ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে বিহারের হয়ে রঞ্জি ট্রফি, বিজয় হাজারে এবং সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে সিনিয়রদের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। গত আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৫ বলে শতরান করে রাতারাতি ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছিলেন তিনি।
মাঠে নামার আগেই বৈভব মাঠের বাইরে এক অনন্য নজির গড়েছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ২.৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। রাজস্থান রয়্যালস তাকে ১.১০ কোটি টাকায় দলে নিয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতের হয়ে ম্যাচ পিছু পান ২০ হাজার টাকা।
এছাড়া, রঞ্জি বা অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টে দিন প্রতি আয় ৪০ হাজার টাকা। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের জন্য বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে পেয়েছেন ৪০ লক্ষ টাকা। উদীয়মান তারকা হিসেবে একাধিক নামী ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনী মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি।
২০২৫ সালের আইপিএল মেগা নিলামে রাজস্থান রয়্যালস যখন এই কিশোরকে দলে নেয়, তখন অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন। কিন্তু এমার্জিং এশিয়া কাপ এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং স্টাইল প্রমাণ করেছে যে তিনি বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারতীয় দলে এখন তারুণ্যের জয়গান। সেক্ষেত্রে বৈভবের মতো মারকুটে ব্যাটারকে খুব দ্রুতই নীল জার্সিতে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এখন শুধু দেখার, নির্বাচকরা কবে এই ‘বিস্ময় প্রতিভা’র হাতে জাতীয় দলের টুপি তুলে দেন।










কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন