Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তি পেলেন খুলনার শরণার্থী তরুণী শম্পা

 

Refugees-from-Khulna

সমকালীন প্রতিবেদন : দীর্ঘ আইনি টানাপড়েনের অবসান। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কারামুক্তি পেলেন বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী তরুণী শম্পা সরকার। বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে ভারতে এলেও ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর এ দেশে থেকে যাওয়ায় তাঁকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তবে বিশেষ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আদালত তাঁকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে।

২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর ওপার বাংলার খুলনা জেলা থেকে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা সহকারে ভারতে প্রবেশ করেন শম্পা সরকার। বনগাঁ থানার চাঁদা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। শম্পার অভিযোগ, বাংলাদেশে থাকাকালীন একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের হাতে চরম অত্যাচার ও নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন তিনি। প্রাণের ভয়ে এবং ভিটেমাটি হারিয়ে একপ্রকার বাধ্য হয়েই তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে আসেন।

শম্পার ভিসার মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু বাংলাদেশে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকায় মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি স্বদেশে ফিরে যাননি। প্রায় এক বছর বনগাঁতেই আত্মগোপন করে থাকার পর, অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পুলিশের দাবি ছিল, সঠিক নথিপত্র ছাড়াই তিনি দীর্ঘ সময় ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করছিলেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শম্পার পাশে দাঁড়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের অনুগামী মতুয়া মহাসঙ্ঘের সদস্যরা। ধর্মীয় ও মানবিক কারণে শম্পাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি। প্রথমে বনগাঁ মহকুমা আদালতে মামলা শুরু হলেও পরে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। শম্পার আইনজীবীরা আদালতে জানান, তিনি কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে নয়, বরং ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতেই এ দেশে আশ্রয়প্রার্থী হয়েছিলেন।

উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর হাইকোর্ট শম্পা সরকারের মানবিক পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে। বাংলাদেশে তাঁর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাকে মান্যতা দিয়ে আদালত তাঁকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে মতুয়া মহাসঙ্ঘ। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি নয়, বরং নিপীড়িত মানুষের আশ্রয়ের অধিকারের জয়। 

সারা ভারত মতুয়া মহা সংঘের (‌শান্তনুপন্থী)‌ সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দ্রনাথ গায়েন জানান, কেন্দ্র সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের শরনার্থী হিসেবে গণ্য করবে ভারত সরকার। সেই হিসেবে শম্পাকে মুক্তি দিয়েছে আদালত। বর্তমানে শম্পা সরকার আইনি সুরক্ষায় বনগাঁর সেই আত্মীয়ের বাড়িতেই রয়েছেন।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন