সমকালীন প্রতিবেদন : প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মতুয়া সমাজে অসন্তোষ ঘনীভূত হয়েছে, আর সেই অসন্তোষের কেন্দ্রে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি-র বিরুদ্ধে ওঠা বঞ্চনার অভিযোগ। নির্বাচন ঘোষণা হতেই প্রায় সব কেন্দ্রেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল, পাশাপাশি অধিকাংশ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপিও। কিন্তু তালিকা সামনে আসার পর থেকেই মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে।
মমতা ঠাকুর এবং শান্তনু ঠাকুর-এর নেতৃত্বাধীন সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘ-এর প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মতুয়াদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। দুই সংগঠনেরই দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও প্রার্থী বাছাইয়ের সময় তাদের অবদান উপেক্ষা করা হয়েছে।
শান্তনু ঠাকুরের মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দ্রনাথ গাইন স্পষ্টভাবে জানান, মতুয়ারা এতদিন বিজেপিকে সমর্থন করে এলেও প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের প্রাপ্য মূল্যায়ন হয়নি। এমনকি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর জেরে আসন্ন নির্বাচনে কাকে সমর্থন করা হবে, সে বিষয়ে সংগঠন কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশ দেবে না বলেও জানান গাইন। তাঁর কথায়, মতুয়ারা নিজেদের মত অনুযায়ী ভোট দেবেন।
অন্যদিকে, মমতা ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ চৌধুরীও একই অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তৃণমূল এবং বিজেপি– দুই দলই মতুয়া সম্প্রদায়কে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি। যারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাউকেই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে মতুয়াদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ভিন্ন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রসঙ্গে সুখেন্দ্রনাথ গাইনও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, মতুয়ারা যদি রাজনৈতিকভাবে প্রাপ্য সম্মান না পান, পরিস্থিতির বদল না ঘটলে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে মতুয়ারা নিজেদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে পারেন।
তবে সুকেশ চৌধুরীর এই মন্তব্য থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছেন মমতা ঠাকুর। তিনি জানান, সুকেশ যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মত, সংগঠনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। এমনকি সংগঠনের কেউই এ বিষয়ে অবগত নন বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি এ-ও স্পষ্ট করেন যে, সংগঠনের পক্ষে এককভাবে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, তাঁর নিজেরও নয়।
এদিকে, মতুয়া মহাসংঘের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিকাশ ঘোষ জানান, মহাসংঘের বক্তব্য সম্পর্কে তিনি বিশেষ কিছু জানেন না। তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিজেপি অতীতেও মতুয়াদের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
সব মিলিয়ে প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে মতুয়া সমাজে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন