সমকালীন প্রতিবেদন : রবিবার বিশ্ব ক্রিকেটের এপিসেন্টার বা কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে মোতেরার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। একদিকে সূর্যকুমার যাদবদের লক্ষ্য তৃতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বাদ পাওয়া, অন্যদিকে কিউয়ি ব্রিগেডের পাখির চোখ টানা দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়া। রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনাল জিতে আত্মবিশ্বাসে ফুটছে টিম ইন্ডিয়া, কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিউজিল্যান্ড বরাবরই ভারতের কঠিন গাঁট।
ফাইনাল ঘিরে যখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, তখন ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন– যদি বৃষ্টিতে ম্যাচ পণ্ড হয়? যদিও আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে রবিবার আহমেদাবাদে বৃষ্টির সম্ভাবনা ক্ষীণ, তবুও আইসিসি কোনো ঝুঁকি রাখছে না। নিয়ম অনুযায়ী, আয়োজকদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে ওভার কমিয়ে হলেও রবিবারের মধ্যেই খেলা শেষ করা।
রবিবার যদি খেলা শুরু হওয়ার পর বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তবে সোমবার অর্থাৎ ‘রিজার্ভ ডে’-তে খেলা ঠিক সেখান থেকেই শুরু হবে যেখানে বন্ধ হয়েছিল। যদি দু’দিন মিলিয়েও কোনোভাবে খেলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হয়, তবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড— দুই দেশকেই ‘যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন’ ঘোষণা করা হবে।
ম্যাচ টাই হলে ফলাফল নির্ধারণে কার্যকরী হবে ‘সুপার ওভার’। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেই বিতর্কিত ‘বাউন্ডারি কাউন্ট’ নিয়ম এখন অতীত। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সুপার ওভার টাই হলে পুনরায় সুপার ওভার হবে। যতক্ষণ না একটি দল জয়ী হিসেবে উঠে আসছে, ততক্ষণ এই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। অর্থাৎ, মাঠেই ফয়সালা করার সবরকম ব্যবস্থা রেখেছে আইসিসি।
পরিসংখ্যান বলছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের রেকর্ড খুব একটা সুবিধাজনক নয়। এখনও পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে কিউয়িদের হারাতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। তবে বর্তমান ফর্ম এবং ঘরের মাঠের চেনা পরিবেশে সূর্যকুমাররা সেই রেকর্ড বদলে দিতে মরিয়া। সেমিফাইনালে ভারতের ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগের দাপট নিউজিল্যান্ড শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
আহমেদাবাদের গ্যালারিতে যখন নীল সমুদ্র আছড়ে পড়বে, তখন গতির লড়াই আর ব্যাটের ঝলসানি এক অনন্য মুহূর্তের জন্ম দেবে বলে আশা করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় কার হাতে ওঠে বিশ্বজয়ের ট্রফি।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন