Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

ট্র্যাজেডির ক্ষত মুছতে আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিলের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বিসিসিআই-এর

 

IPL-Inauguration

সমকালীন প্রতিবেদন : গত বছরের সেই কাঙ্ক্ষিত জয়ের আনন্দ যে এভাবে বিষাদে পরিণত হবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি ক্রিকেট বিশ্ব। ২০২৫ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু প্রথমবারের মতো আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ট্রফি প্যারেড চলাকালীন ঘটে গিয়েছিল এক বিভীষিকাময় দুর্ঘটনা। ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১ জন অনুরাগী। 

সেই মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্ণ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে বিসিসিআই এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২০২৬ আইপিএল মরশুমের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পুরোপুরি বাতিল করার ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

আজ, ২৮ মার্চ থেকে পর্দা উঠছে আইপিএলের নতুন মরশুমের। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বেঙ্গালুরুর ঘরের মাঠ এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ আয়োজিত হলেও মাঠের বাইরে থাকবে না কোনো গ্ল্যামার বা তারকাসমৃদ্ধ নাচ-গানের অনুষ্ঠান। 

বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিৎ শইকীয়া সংবাদমাধ্যম-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, গত বছর ৪ জুনের সেই মর্মান্তিক স্মৃতি এখনও মানুষের মনে দগদগে। তাই বিসিসিআই এবং আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সম্মিলিতভাবে ঠিক করেছে, এই বছর উদ্বোধনে কোনো সাংস্কৃতিক বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে না।

শইকীয়া বলেন, "যাঁরা গত বছর প্রিয় দলের জয় উদযাপন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার এবং তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই পরিস্থিতিতে উৎসবের আমেজ সাজাটা মানানসই নয়।" শুধুমাত্র বোর্ড নয়, খোদ আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং কর্নাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনও নিহতদের স্মরণে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। 

ক্লাব সূত্রের খবর, চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বিশেষ ১১টি আসন সারা বছরের জন্য সংরক্ষিত বা ‘রিজার্ভ’ করে রাখা হবে। ম্যাচের দিন আরসিবির প্রতিটি ক্রিকেটার অনুশীলনের সময় ১১ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামবেন, যা মূলত ওই ১১ জন প্রয়াত ভক্তের প্রতীক। এছাড়াও মূল ম্যাচের সময় খেলোয়াড়দের হাতে থাকবে কালো আর্মব্যান্ড। ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়াম জুড়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে শোকাতুর পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাতে।

বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্ত মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১৯ সালের কথা। সেবার পুলওয়ামা জঙ্গি হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের শহীদ হওয়ার ঘটনায় শোকস্তব্ধ ছিল গোটা দেশ। তৎকালীন সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করে দিয়েছিল এবং অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল শহীদ জওয়ানদের পরিবারবর্গের হাতে। ঠিক সাত বছর পর, ২০২৬ সালেও বিসিসিআই একই রকম মানবিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল হলেও টুর্নামেন্টের শেষে সমর্থকদের জন্য থাকছে বড় চমক। আগামী ৩১ মে আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচ আয়োজিত হবে। বোর্ড সেক্রেটারি জানিয়েছেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঘাটতি মেটাতে ওই দিন এক বর্ণাঢ্য এবং মেগা সমাপ্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বিসিসিআই ও আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল যৌথভাবে এই বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছে, যাতে খেলার বিনোদন বজায় থাকে।

আজ, শনিবার যখন চিন্নাস্বামীতে প্রথম বল গড়াবে, তখন গ্যালারিতে থাকবে না প্রথাগত আতশবাজি বা ডিজে-র গর্জন। বরং এক শান্ত এবং শ্রদ্ধাপূর্ণ গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়েই শুরু হবে এবারের কোটিপতি লিগ। ক্রিকেট মহলের মতে, বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্ত খেলাধুলার মানবিক দিকটিকে আবারও উজ্জ্বল করে তুলল।‌‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন