Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি রুখতে কড়া কেন্দ্র: আসছে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের নতুন আইন

 

Social-media-addiction-in-children

সমকালীন প্রতিবেদন : স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ‘মাইন্ডলেস রিলস’ আর ভার্চুয়াল জগতের নেশায় বুঁদ শৈশব। বিশ্বজুড়ে মনোবিদদের উদ্বেগের মাঝেই এবার শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে রাশ টানতে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। তবে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং বয়স অনুযায়ী ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণের পথেই হাঁটছে কেন্দ্র। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী বাদল অধিবেশনেই এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিল সংসদে পেশ করা হতে পারে।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কমবয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য তিনটি আলাদা বিভাগ তৈরির পরিকল্পনা করছে আইটি মন্ত্রক। বিভাগগুলি হলো– ৮ থেকে ১২ বছর, ১২ থেকে ১৬ বছর এবং ১৬ থেকে ১৮ বছর। প্রতিটি স্তরের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নিয়ম ও প্রবেশাধিকার আলাদা হবে। কঠোর নিষেধাজ্ঞার চেয়ে ‘যুক্তিযুক্ত নিয়ন্ত্রণ’ বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করছেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তারা।

মন্ত্রক সূত্রের খবর, শিশুদের ডিজিটাল আসক্তি কমাতে একাধিক প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে দিনে একটি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা যাবে না। সন্ধ্যা বা রাতের নির্দিষ্ট সময়ের পর শিশুদের জন্য লগ-ইন বন্ধ রাখা হতে পারে। অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোর আইন এনেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-ও ভারতকে ১৫ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন। ২০২৫-২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষাতেও শিশুদের জন্য সাধারণ ফোন বা শিক্ষামূলক ট্যাবের প্রচার এবং বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করা হয়েছিল।

প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মতে, কর্ণাটক বা অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি যদি আলাদা আলাদা বয়সসীমা নির্ধারণ করে, তবে তা কার্যকর করা কঠিন হবে। তাই কেন্দ্রীয় স্তরে একটি অভিন্ন আইনের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, ডিজিটাল অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলি আশঙ্কা করছে, কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে শিশুদের তথ্য পাওয়ার অধিকার খর্ব হতে পারে এবং লিঙ্গ বৈষম্য বাড়তে পারে।

সরকারি মহলের দাবি, এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো ‘নাগরিকের নিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষা’। বিলটি পেশ করার পর তা সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই দেশজুড়ে অভিন্ন নিয়ম চালু করা হবে।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন