সমকালীন প্রতিবেদন : উত্তর ২৪ পরগনার লাইফলাইন যশোর রোড এখন সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের অপর নাম। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি মৃত শিরীষ গাছ যেন একেকটি মরণফাঁদ। সামনেই কালবৈশাখীর মরসুম, অথচ প্রশাসনের হেলদোলহীনতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রীরা। সামান্য হাওয়া দিলেই ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ছে শুকনো ডাল, যা যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
গত দু’দিন আগে রাতে বনগাঁ শহরের যশোর রোড ও রামনগর রোডের সংযোগস্থলে কোনো ঝড়বৃষ্টি ছাড়াই একটি বিশালাকার শুকনো ডাল হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে কয়েকটি দোকানের ওপর। দোকানগুলি দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও অল্পের জন্য রক্ষা পান কর্মীরা। কোনো প্রাণহানি না হলেও এই ঘটনা এলাকাবাসীর মনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, মাঝেমধ্যেই এমন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, কিন্তু বড় কোনো বিপর্যয়ের অপেক্ষায় কি প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে আছে?
একসময় এই শতাব্দীপ্রাচীন গাছগুলি বাঁচানোর জন্য বৃক্ষপ্রেমীরা দীর্ঘ আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয়দের মতে, সেই সময় গাছগুলি জীবিত ছিল। বর্তমানে রহস্যজনকভাবে একের পর এক গাছ শুকিয়ে মৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। মৃত এই গাছগুলি এখন পরিবেশ রক্ষার বদলে জনজীবনের নিরাপত্তার খাতিরেই অপসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিপজ্জনক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা পূর্ত দপ্তর ও বন দপ্তরে গণস্বাক্ষর সম্বলিত আবেদন জমা দিয়েছেন। কালুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত গাছগুলি কাটার বিষয়ে উদ্যোগ নিলেও সরকারি স্তরে চূড়ান্ত অনুমতি মেলেনি। বনগাঁ পুরসভার প্রধান দিলীপ মজুমদার ইতিমধ্যেই জেলাশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিতে চিঠি পাঠিয়ে বিপজ্জনক গাছ ও ডালগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত কাটার অনুরোধ জানিয়েছেন।
চৈত্র মাস শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। যেকোনো দিন আছড়ে পড়তে পারে কালবৈশাখী। ঝড়ের দাপটে এই জরাজীর্ণ ডালগুলি ভেঙে পড়লে যশোর রোডের মতো ব্যস্ত রাস্তায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা প্রবল। মাঝেমধ্যে দু-একটি ডাল ছাঁটাই করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
জনসাধারণের দাবি, কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগে প্রশাসন যেন অবিলম্বে সক্রিয় হয় এবং যশোর রোডকে নিরাপদ করে তোলে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়বে। সাধারণ সচেতন মানুষদের পাশাপাশি পুরসভা এবং পঞ্চায়েতের আবেদনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির কবে ঘুম ভাঙে, সেটাই এখন দেখার।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন