সমকালীন প্রতিবেদন : মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আর হরমুজ প্রণালির উত্তপ্ত পরিস্থিতির আবহে হঠাৎই ছড়িয়ে পড়েছিল একটি খবর– রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার পেতে এবার গ্রাহকদের আরও বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া এই খবর ঘিরে আমজনতার মধ্যে তৈরি হয়েছিল চরম উদ্বেগ। তবে বুধবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও ন্যাচারাল গ্যাস মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিল, গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা বৃদ্ধির খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুয়ো।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে, দেশে জ্বালানি সরবরাহে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্র নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছিল, ডবল সিলিন্ডার গ্রাহকদের পরবর্তী রিফিল বুক করার জন্য ২৫ দিনের পরিবর্তে ৩৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। সিঙ্গেল সিলিন্ডার ও উজ্জ্বলা যোজনার ক্ষেত্রে বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে যথাক্রমে ২৫ ও ৪৫ দিন করার কথা রটেছিল। স্বাভাবিকভাবেই রান্নার গ্যাসের জোগান অনিয়মিত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই জল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে মন্ত্রক একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকারের তরফে বুকিংয়ের সময়সীমায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, আগে যে নিয়ম ছিল, বর্তমানে সেটিই বলবৎ রয়েছে। শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে সিলিন্ডার পাওয়ার ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে ৪৫ দিন পরেই পরবর্তী সিলিন্ডার বুক করা যাবে। দেশে এলপিজি-র কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস বর্তমানে মজুত রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকদের অনুরোধ জানিয়েছে, এই ধরনের অপপ্রচারে কান দেবেন না এবং অযথা আতঙ্কিত হয়ে আগাম বুকিং করার প্রয়োজন নেই। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, "কিছু অসাধু চক্র ভুল তথ্য ছড়িয়ে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরির চেষ্টা করছে। নাগরিকদের কাছে আমাদের অনুরোধ, সঠিক তথ্য যাচাই না করে কোনো খবর ছড়াবেন না।"
মূলত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, কেন্দ্রের এই দ্রুত পদক্ষেপে তাতে আপাতত ইতি পড়ল। সাধারণ গ্রাহকরা আগের মতোই নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে তাঁদের সিলিন্ডার বুক করতে পারবেন।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন