সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন অজিত আগরকর। দীর্ঘদিনের জল্পনা ও গুঞ্জনে সিলমোহর দিয়ে তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে চিঠি মারফত জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তিনি আর এই পদে থাকতে আগ্রহী নন। আগামী ৪ অক্টোবর নির্বাচকপ্রধান হিসেবে তাঁর নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে। তবে বোর্ড তাঁর চুক্তি পুনর্নবীকরণ করতে পারে বলে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, আগরকরের এই আত্মত্যাগের মতো পদক্ষেপে তা একপ্রকার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।
আসন্ন ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত অজিত আগরকরের কাঁধেই দল নির্বাচনের দায়িত্ব থাকবে নাকি মেয়াদ শেষেই তাঁর ছুটি হবে, তা নিয়ে ক্রিকেটপাড়ায় গত কয়েকদিন ধরেই চরম নাটকীয়তা চলছিল। বিসিসিআই-এর বার্ষিক সাধারণ সভার পর সংস্থার নতুন সচিব দেবজিৎ সইকিয়া অবশ্য কিছুটা ধোঁয়াশা বজায় রেখেই জানিয়েছিলেন, "নির্বাচক নির্বাচন নিয়ে তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। হাতে এখনও ১৫ দিন সময় আছে এবং ক্রিকেটের জগতে এই সময়টা কম নয়। সময় হলেই সঠিক পদক্ষেপ করা হবে।"
কিন্তু বোর্ডের সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা না করেই আগরকর ইমেলের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতেই তিনি বোর্ডের শীর্ষকর্তাদের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তাঁর মেয়াদ ফুরোলে বিকল্প মুখ খুঁজে নেওয়া হোক। আগরকরের মেয়াদ শেষ মুহূর্তে না বাড়ানোর পেছনে প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ ও দলীয় নীতি নিয়ে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভকেই প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
ক্রিকেট মহল সূত্রে খবর, অভিজ্ঞ তারকা রোহিত শর্মাকে টেস্ট ও পরবর্তী ওয়ানডে পরিকল্পনা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য নির্বাচক কমিটি যে কড়া বার্তা দিয়েছিল, তা বোর্ডের শীর্ষ নেতৃত্ব ভালোভাবে নেয়নি। বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে মনোভাবের এই অমিল এবং সাম্প্রতিক রিভিউ মিটিংয়ে আগরকরের অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সেই কারণেই মেয়াদ বৃদ্ধির সবুজ সংকেত না পেয়ে সম্মানজনকভাবে নিজেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রাক্তন এই ভারতীয় পেসার।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর আগরকরের মেয়াদে ভারতীয় ক্রিকেট এক স্মরণীয় পথ অতিক্রম করেছে। তাঁর নেতৃত্বে রোহিত-বিরাটের টেস্ট পরবর্তী অধ্যায় শুরু হয়, শুভমান গিল সহ তরুণদের হাতে দায়িত্ব ওঠে এবং সূর্যকুমার যাদবের পরিবর্তে শ্রেয়স আইয়ারের হাতে নতুন ব্যাটন যায়। তাঁর আমলেই ভারত ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করে।
আগরকরের বিদায় প্রায় নিশ্চিত হতেই নতুন নির্বাচকপ্রধান বাছার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে বিসিসিআই। এই পদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ভারতের প্রাক্তন উইকেটকিপার-ব্যাটার পার্থিব প্যাটেল ও প্রাক্তন বাঁ-হাতি স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা। বিসিসিআই-এর নিয়মানুযায়ী, নির্বাচক কমিটির সর্বাধিক টেস্ট খেলা সদস্যই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। সেই হিসেবে ২৫টি টেস্ট খেলা পার্থিব, ২৪টি টেস্ট খেলা প্রজ্ঞানের চেয়ে সামান্য এগিয়ে। তবে কিছু মহলে জাহির খানের নামও আলোচনায় আসছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আপাতত বোর্ডের পদাধিকারীদের হাতেই ন্যস্ত রয়েছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন