সমকালীন প্রতিবেদন : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গৃহস্থের রান্নাঘরেও। অনেক এলাকাতেই এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাতে কোথাও কৃত্রিমভাবে গ্যাসের অভাব তৈরি করে কালোবাজারি না হয়, সেদিকে কড়া নজরদারি শুরু করল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন।
আজ সকালে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানার অন্তর্গত আঙরাইল এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়, যখন আচমকাই একটি এইচপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে পৌঁছে যান গাইঘাটা থানার আইসি শুভাশিস দত্ত। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত আছে কি না এবং তারা সঠিক নিয়মে সরবরাহ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই ঝটিকা সফর বলে জানা গিয়েছে।
পরিদর্শন চলাকালীন আইসি শুভাশিস দত্ত সংশ্লিষ্ট অফিসের স্টক রেজিস্টার, কম্পিউটারে থাকা সাম্প্রতিক বুকিংয়ের রেকর্ড এবং গোডাউনের বর্তমান পরিস্থিতি তন্নতন্ন করে খতিয়ে দেখেন। ডিলারদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে গ্রাহকদের হয়রানি না করা হয় এবং সরকারি নিয়ম মেনে সিলিন্ডার বিলি করা হয়। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ডিলারদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পরামর্শও দেন তিনি।
প্রশাসনের এই তৎপরতায় গাইঘাটার আঙরাইল সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, "যুদ্ধের যা পরিস্থিতি, তাতে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম যে ডিলাররা হয়তো গ্যাস লুকিয়ে রেখে বেশি দাম চাইবে। কিন্তু পুলিশ যেভাবে নিজে এসে তদারকি করছে, তাতে আমরা নিশ্চিন্ত হলাম।"
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও এই ধরনের নজরদারি জারি থাকবে। কোনো ডিলার বা ডিস্ট্রিবিউটর যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন