Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে বনগাঁর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু স্বাস্থ্য দপ্তরের

 ‌

Allegations-of-Medical-Negligence

সমকালীন প্রতিবেদন : অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে পেট কাটার পরে অপারেশন না করে রোগীর পেট সেলাই করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। রোগীর পরিবারের অভিযোগ ছিল, এক্ষেত্রে চিকিৎসার গাফিলতি হয়েছে। আর তারই প্রেক্ষিতে এবার সরকারি পর্যায়ে তদন্ত শুরু হলো। 

জানা গেছে, বনগাঁ থানার পলতা এলাকার বাসিন্দা বছর ৪৩ বয়সের জয়শ্রী অধিকারীর জরায়ুতে টিউমার ধরা পড়ে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত প্রায় দুমাস ধরে তিনি বনগাঁর স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা:‌ তমিশা পানিগ্রাহীর কাছে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বনগাঁতেই একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে অপারেশন করার প্রস্তুতি নেয় পরিবার।

সেই অনুযায়ী গত ২১ মার্চ, শনিবার দুপুরে জয়শ্রীদেবীকে বনগাঁর আমলাপাড়া এলাকার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। পরদিন অর্থাৎ রবিবার সকালে তাঁর অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। অপারেশন থিয়েটারে নিয়েও যাওয়া হয় জয়শ্রীদেবীকে। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক ফিরে এসে বড় বিপদের কথা জানান রোগীর পরিজনদের। 

জয়শ্রীদেবীর স্বামী সুজিত অধিকারী জানান, অপারেশন থিয়েটারে তাঁর স্ত্রীর পেট কাটার পর চিকিৎসক তাঁর স্ত্রীর অপারেশন সম্পন্ন না করার সিদ্ধান্ত নেন। ওটির বাইরে এসে চিকিৎসক তাঁদেরকে জানান যে, রোগীর পেটের ভেতরে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় অপারেশন করলে জীবনের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। তাই তাঁকে অপারেশন না করে পেট সেলাই করে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক। 

সুজিত অধিকারীর দাবি, এই সময় তাঁরা চিকিৎসককে বনগাঁতেই অপারেশন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে বলেন। তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ খরচ করতেও তাঁরা রাজি হন। কিন্তু বনগাঁতে সেই পরিকাঠামো নেই বলে চিকিৎসক দায় এড়িয়ে যান বলে সুজিতবাবুর অভিযোগ।

সুজিত অধিকারীর বক্তব্য, এই ধরনের অপারেশন যদি বনগাঁতে না হয়, তাহলে তিনি কেন অপারেশন করার দায়িত্ব নিলেন। অপারেশন টেবিলে রোগীর পেট কাটার পর অপারেশন না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসক রোগীর পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এই ঘটনায় চিকিৎসকের দূরদর্শিতা তথা গাফিলতির অভিযোগ এনে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সুজিত অধিকারী। যেহেতু বিষয়টি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত, তাই পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

তবে এক্ষেত্রে চিকিৎসক তামিশা পানিগ্রাহী দাবি করেছেন, রোগীর জীবনের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে অপারেশন না করার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তাঁর কোনও গাফিলতি নেই। রোগীর পরিজনেরা কলকাতার সরকারি হাসপাতাল থেকে যে ইউএসজি এবং স্ক্যান রিপোর্ট দেখিয়েছিলেন, সেখানে এই জটিলতার কথা উল্লেখ করা ছিল না বলে দাবি করেন চিকিৎসক। 

এদিকে বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে যাওয়ার পরই এ ব্যাপারে তৎপরতা শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। বনগাঁ মহকুমার সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা: মৃগাঙ্ক‌ সাহারায় জানিয়েছেন, রোগীর পরিজনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। চিকিৎসক, রোগী, রোগীর পরিজনদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি সমস্ত রিপোর্ট ও চিকিৎসা পদ্ধতি খতিয়ে দেখে চিকিৎসার গাফিলতি ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।‌

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন