সমকালীন প্রতিবেদন : জানুয়ারির কনকনে ঠান্ডা এখন অতীতের পথে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পেরোতেই রাজ্যজুড়ে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, শীতের বিদায় ঘণ্টা কার্যত বেজে গিয়েছে। দিনের বেলায় শীতের অনুভূতি দ্রুত কমবে, যদিও ভোর ও রাতের দিকে এখনও হালকা ঠান্ডার ছোঁয়া থাকবে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী দু’-তিন দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। শনিবার থেকেই এই পরিবর্তন স্পষ্ট হবে এবং রবিবারের মধ্যে দিনের বেলায় শীত প্রায় উধাও হয়ে যাবে। উত্তুরে হাওয়ার প্রভাব কমে যাওয়ায় ঠান্ডার তীব্রতা আর আগের মতো থাকবে না।
কলকাতা-সহ হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় আগামী সাত দিন শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। সকালে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা বা শিশির দেখা যেতে পারে, তবে ঘন কুয়াশার সতর্কতা আপাতত নেই। আবহাওয়া দফতরের ইঙ্গিত, ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা আরও স্পষ্ট হবে। অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইনস ডে থেকেই শীত কার্যত বিদায়ের পথে।
বর্তমানে পঞ্জাব ও সংলগ্ন উত্তর পাকিস্তানে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয়। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থানে একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি আপার এয়ার সার্কুলেশন রয়েছে। তবে এই সব ব্যবস্থার প্রভাব বাংলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি করছে না।
উত্তরবঙ্গেও আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দুই দিনাজপুর ও মালদহে আগামী কয়েক দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা থাকবে, বিশেষ করে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর ও কোচবিহারে কুয়াশার দাপট কিছুটা বেশি হতে পারে।
দার্জিলিংয়ের পার্বত্য এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে। কালিম্পং ও সংলগ্ন এলাকায় ৮ থেকে ১২ ডিগ্রি, আর শিলিগুড়ি ও মালদহে ১৪ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে পারদ। উইকেন্ডে এই তাপমাত্রা আরও কিছুটা বাড়বে বলে পূর্বাভাস।
সব মিলিয়ে, কনকনে ঠান্ডার দিন শেষের পথে। সকাল-রাতের হালকা শীত থাকলেও দিনের বেলায় উষ্ণতার প্রভাব বাড়বে। আগামী সপ্তাহজুড়ে আকাশ প্রধানত পরিষ্কার থাকবে এবং শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে গোটা রাজ্যে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এ যেন বিদায়ের আগে শীতের শেষ ঝলক– এরপরই ধীরে ধীরে বসন্তের আমেজ স্পষ্ট হবে বাংলায়।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন