Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সচিনকে আউট করতে নিতেন ‘গোপন ড্রাগ’! ২৭ বছর পর শোয়েব আখতারের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

 

Shoaib-Akhtar

সমকালীন প্রতিবেদন : ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটীয় দ্বৈরথ মানেই নব্বই বা দু’হাজারের দশকে এক টানটান উত্তেজনা। একদিকে সচিন, দ্রাবিড়, সৌরভদের নিয়ে গড়া বিশ্বের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপ; অন্যদিকে ওয়াসিম, ওয়াকার, শোয়েব আর সাকলাইনের বিষাক্ত বোলিং আক্রমণ। সেই স্বর্ণযুগের এক অন্ধকার অথচ রোমহর্ষক সত্য এবার প্রকাশ্যে আনলেন ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ শোয়েব আখতার। 

সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামার জেদে তিনি এবং স্পিনার সাকলাইন মুস্তাক সিনিয়রদের চোখ এড়িয়ে গোপনে ‘ইনজেকশন ও ড্রাগ’ ব্যবহার করতেন। শোয়েব জানান, ১৯৯৮-৯৯ সালের সেই ঐতিহাসিক ভারত সফরের সময় থেকেই তাঁর এবং সাকলাইনের হাঁটু কার্যত অকেজো হয়ে গিয়েছিল। শোয়েবের হাঁটুতে তরল জমে ফুলে থাকত এবং সাকলাইনের সমস্যা শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সাল থেকেই। 

শোয়েব বলেন, "আমরা লুকিয়ে পিল খেতাম আর ব্যথানাশক ইনজেকশন নিতাম। যদি সিনিয়ররা জানতেন আমাদের অবস্থা এমন, তবে সাকলাইনকে তখনই দল থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হতো। আর আমি তো বরাবরই তাঁদের টার্গেটে ছিলাম।" ক্যারিয়ার বাঁচাতে এবং ভারতের বিপক্ষে খেলার তীব্র ইচ্ছা থেকেই তাঁরা এই ঝুঁকি নিতেন।

ইডেন গার্ডেন্সে রাহুল দ্রাবিড় ও সচিন তেন্ডুলকরকে পরপর দুই বলে বোল্ড করার সেই দৃশ্য আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে টাটকা। শোয়েব ফাঁস করেছেন, সেই সিরিজে সচিনের উইকেট নেওয়া নিয়ে সাকলাইনের সঙ্গে তাঁর রীতিমতো চ্যালেঞ্জ চলত। সাকলাইন চেন্নাই বা দিল্লিতে উইকেট পেলে পরের ম্যাচে শোয়েব বাজি ধরতেন যে, এবার সচিন তাঁর শিকার হবেন। 

এই সুস্থ প্রতিযোগিতাই তাঁদের অসহ্য যন্ত্রণা ভুলে মাঠে দৌড়াতে বাধ্য করত। শোয়েব ‘ড্রাগ’ শব্দটি ব্যবহার করায় দানা বেঁধেছে বিতর্ক। যদিও নিয়মিত ডোপ টেস্টের কারণে তাঁরা নিষিদ্ধ কোনো ড্রাগ নিতেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলি ছিল অত্যন্ত কড়া ডোজের ব্যথানাশক ড্রাগ।

সময়ের সঙ্গে ভারত-পাক লড়াইয়ের সেই ঝাঁজ অনেকটাই ফিকে হয়েছে। এখন আর আগের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয় না। আইসিসি ইভেন্ট বা এশিয়া কাপে পাকিস্তান এখন ভারতের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপের টানা জয় বা চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের আধিপত্যই তার প্রমাণ। 

তবে ২৭ বছর বাদে আখতারের এই স্বীকারোক্তি আবারও মনে করিয়ে দিল– নব্বইয়ের সেই লড়াই শুধু ব্যাটে-বলে ছিল না, ছিল শরীরকে তুচ্ছ করা এক চরম মানসিক যুদ্ধের নাম।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন