সমকালীন প্রতিবেদন : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কি তবে মুর্শিদাবাদের মাটি থেকেই ভাগ্য ফেরাতে চাইছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম? সম্প্রতি নিউটাউনের এক বিলাসবহুল হোটেলে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ‘একান্ত বৈঠক’ ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে এই জল্পনাই এখন তুঙ্গে। বাম শিবিরের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, মুর্শিদাবাদের কোনো একটি আসন থেকে প্রার্থী হতেই কি হুমায়ুনের শরণাপন্ন হয়েছেন সেলিম?
গত লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে কংগ্রেসের সমর্থনে লড়াই করেও জয়ের মুখ দেখেননি মহম্মদ সেলিম। তবে পরাজয় সত্ত্বেও ওই জেলার রাজনৈতিক জমি ছাড়তে তিনি নারাজ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ জেলার ২২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে যে কোনো একটি নিরাপদ আসন থেকে প্রার্থী হতে আগ্রহী তিনি। আর সেই পথ মসৃণ করতেই হুমায়ুন কবীরের মতো স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার সমর্থন পেতে এই দৌত্য।
বৈঠক শেষে সেলিম জানিয়েছেন, তিনি কেবল হুমায়ুনের ‘মন’ বুঝতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর এই মন্তব্যে চিঁড়ে ভিজছে না খোদ সিপিএমের একাংশের মধ্যে। দলের অন্দরে সেলিম-বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যে হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেছেন, তাঁর সঙ্গে বামপন্থীদের আঁতাত কতটা যুক্তিসঙ্গত?
গত লোকসভা নির্বাচনের সময় হিন্দুদের ‘ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেওয়ার’ বিতর্কিত হুঙ্কার দিয়েছিলেন হুমায়ুন। এমনকি বিজেপির সমর্থন নিতেও তাঁর কোনো ‘ছুৎমার্গ’ নেই বলে জানিয়েছিলেন। এমন এক নেতার সঙ্গে দলের অনুমোদন ছাড়াই কেন নিভৃতে বৈঠক করতে গেলেন রাজ্য সম্পাদক?
হুমায়ুন-সেলিম বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসতেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের অন্দরমহলে অস্বস্তি বেড়েছে। দলের একটি বড় অংশ মনে করছে, জেতার জন্য মহম্মদ সেলিম যেভাবে ‘মরিয়া’ হয়ে নীতি-আদর্শের তোয়াক্কা না করে বৈঠক করছেন, তাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। অন্যদিকে, সেলিমের অনুগামীদের দাবি, তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী ভোট এককাট্টা করতেই এই রণকৌশল।
যদিও মুর্শিদাবাদে প্রার্থী হওয়া বা হুমায়ুনের সঙ্গে জোট নিয়ে সরকারিভাবে আলিমুদ্দিন এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুর্শিদাবাদের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে সেলিম যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন, তা আসন্ন নির্বাচনে বামফ্রন্টের অন্দরে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন