Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ইছামতীর নাব্যতা ফেরাতে নতুন করে নদী সংস্কারের কাজ শুরু

 

River-renovation

সমকালীন প্রতিবেদন : উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ ও বসিরহাট মহকুমার কয়েক লক্ষ মানুষকে বন্যার হাত তেকে রক্ষা করতে নতুন করে শুরু হলো ইছামতী নদী সংস্কারের কাজ। শনিবার দুপুরে গাইঘাটা ব্লকের বেড়ি গোপালপুর ঘাটে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী। নদী বক্ষ থেকে পলি সরিয়ে একদিকে যেমন জলের স্বাভাবিক গতিধারা ফিরিয়ে আনা লক্ষ্য, তেমনই বর্ষার মরসুমে নদী তীরবর্তী এলাকাকে বন্যার প্রকোপ থেকে বাঁচাতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাইঘাটার কালাঞ্চি সেতু থেকে স্বরূপনগর ব্লকের তেঁতুলিয়া সেতু পর্যন্ত মোট ৪৩ কিলোমিটার নদীপথ সংস্কার করা হবে। এই কাজ সম্পন্ন হবে মোট ন’টি পর্যায়ে। প্রথম পর্যায়ে কালাঞ্চি থেকে ঘোলা পর্যন্ত সাড়ে আট কিলোমিটার নদীপথে পলি তোলার কাজ শুরু হয়েছে।

জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে নদী বক্ষ থেকে প্রায় ১১ কোটি সিএফটি পলিমাটি তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। উত্তোলিত পলিমাটি ফেলে না দিয়ে তা বিভিন্ন গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে বলে। প্রয়োজনমতো বিক্রিও করা হবে।

এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর দায় চাপিয়ে নারায়ণ গোস্বামী জানান, ২০১৩-১৪ সাল নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেড়ি গোপালপুর এলাকায় ইছামতীর ওপর একটি কংক্রিটের সেতু নির্মানের জন্য ১২ কোটি টাকা অনুমোদন করেছিলেন। টেন্ডার প্রক্রিয়া ও ৭০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রের ‘ভারতমালা’ প্রকল্পের কারণে সেই কাজ আটকে দেওয়া হয়। কেন্দ্রের তরফে বড় সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

ইছামতী নদী সংস্কারের ফলে মূলত গাইঘাটা, বনগাঁ এবং স্বরূপনগর ব্লকের কয়েক লক্ষ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এই এলাকাগুলি দীর্ঘকাল ধরে বন্যাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। নদী সংস্কারের ফলে জলের ধারণ ক্ষমতা বাড়বে, যার ফলে বর্ষায় দুকূল ছাপিয়ে গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে।

এদিনের অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের সভাধিপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর, পঞ্চায়েত স্তরের বিভিন্ন জমপ্রতিনিধি সহ স্থানীয় প্রশাসনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। নদী সংস্কারের এই সূচনাকে কেন্দ্র করে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে।‌ তবে শেষ পর্যন্ত এই নদী সংস্কার এলাকার মানুষের কতটা কাজে লাগে, সেটাই এখন দেখার।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন