Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দেশের দ্রুততম মিরাট মেট্রো চালু, দিল্লি-মিরাট মাত্র ৫৫ মিনিটে

 

Meerut-Metro

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌দেশের পরিবহণ পরিকাঠামোয় নতুন মাইলফলক স্থাপন করল ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ দিল্লি-গাজিয়াবাদ-মিরাট করিডোর। দেশের প্রথম আঞ্চলিক দ্রুতগামী রেলব্যবস্থা বা ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন-এর অধীনে নির্মিত এই রিজিয়নাল র‌্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (আরআরটিএস) এখন পুরোপুরি চালু। রবিবার শতাব্দী নগর স্টেশন থেকে মিরাট মেট্রো এবং ‘নমো ভারত’ ট্রেন পরিষেবার সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

দিল্লির সরাই কালে খাঁ থেকে উত্তরপ্রদেশের মোদিপুরম পর্যন্ত বিস্তৃত এই করিডোরের শেষ দুই ধাপের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরই যাত্রীদের জন্য পরিষেবা চালু করা হয়েছে। দিল্লি অংশে ৫ কিলোমিটার এবং উত্তরপ্রদেশ অংশে ২১ কিলোমিটার সম্প্রসারণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ রুট এখন উন্মুক্ত। এর ফলে দিল্লি থেকে মিরাট পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৫৫ মিনিট।

গতির নিরিখে মিরাট মেট্রো এখন দেশের দ্রুততম। নকশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার হলেও বাণিজ্যিক পরিষেবায় ট্রেন ছুটবে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে। ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ মিরাট মেট্রো করিডোরটি মূলত শহরের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে তৈরি। বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, মিরাট অংশে মেট্রো এবং ‘নমো ভারত’ একই ট্র্যাক ও পরিকাঠামো ব্যবহার করবে।

মোট ১৩টি স্টেশনের মধ্যে ৯টি উড়ালপথে, ৩টি ভূগর্ভস্থ এবং মোদিপুরম ডিপো স্টেশনটি সমতলে অবস্থিত। মিরাট দক্ষিণ, শতাব্দী নগর, বেগমপুল এবং মোদিপুরম– এই চারটি স্টেশনে মেট্রো ও র‌্যাপিড রেল উভয়েরই স্টপেজ থাকবে।

প্রতিটি মিরাট মেট্রো ট্রেনে রয়েছে তিনটি কোচ, যেখানে প্রায় ৭০০ যাত্রী একসঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা, আরামদায়ক আসন, ইউএসবি চার্জিং পয়েন্ট, ডাইনামিক রুট ম্যাপ এবং সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি আপৎকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রী ও প্রবীণদের জন্য হুইলচেয়ার ও স্ট্রেচারের ব্যবস্থাও রয়েছে।

সপ্তাহের কর্মদিবস ও শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এবং রবিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পরিষেবা মিলবে। ব্যস্ত সময়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট অন্তর ট্রেন চলবে। একই টিকিটে ‘নমো ভারত’ ও মিরাট মেট্রো– উভয় পরিষেবায় যাতায়াতের সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।

২০১৯ সালে প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছিল। ২০২৫ সালের গোড়ায় সফল পরীক্ষামূলক চালনার পর পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা শুরু হল। প্রশাসনের মতে, এই দ্রুতগামী রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় গাজিয়াবাদ, নয়ডা, দিল্লি ও গুরুগ্রামের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে। পাশাপাশি দিল্লির যানজট ও দূষণ কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন