Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দীর্ঘকালীন লিভ-ইন সম্পর্কের বিচ্ছেদ 'ধর্ষণ' নয়: পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের

 

Live-in-relationship

সমকালীন প্রতিবেদন : দীর্ঘদিনের সম্মতিতে সহবাস এবং পরবর্তী সময়ে সম্পর্কের অবনতি হলে তাকে 'ধর্ষণ' হিসেবে গণ্য করা যায় না। এক মহিলার দায়ের করা ধর্ষণের মামলা খারিজ করে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছেন, দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক যদি স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করার মতো ঘটনা ঘটে, তবে তাকে অপরাধমূলক প্রতারণা বা ধর্ষণ বলা আইনত যুক্তিসঙ্গত নয়।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মামলাটির সূত্রপাত ২০১৭ সালে। জনৈক মহিলার অভিযোগ ছিল, ২০১৮ সালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে মদ্যপান করিয়ে প্রথমবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। মহিলার দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি থাকায় তিনি তখন নিরব ছিলেন। এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর তাঁরা স্বামী-স্ত্রীর মতো একত্রে বসবাস করেছেন এবং দিঘা ও গোয়ার মতো পর্যটন কেন্দ্রেও ভ্রমণ করেছেন। ২০২০ সালে মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হলে গর্ভপাতও করান। মহিলার অভিযোগ, ২০২২ সালে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিয়ে করতে অস্বীকার করলে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলার সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও মেডিক্যাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাস বলেন, দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছায় মেলামেশা করেছেন। খড়্গপুর থেকে পার্ক স্ট্রিট– বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা রাত কাটিয়েছেন। এটি স্পষ্টতই একটি সম্মতিভিত্তিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।

মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, মহিলা স্বেচ্ছায় গর্ভপাতে সম্মতি দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর 'ভুল ধারণা' বা 'বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি'র দোহাই দিয়ে আগের সমস্ত ঘটনাকে ধর্ষণ বলা চলে না। বিচারপতি জানান, সম্পর্কে থাকাকালীন দু'জনেই সহবাস করেছেন। পরবর্তীকালে কোনও কারণে সেই সম্পর্কে ফাটল ধরা বা তিক্ততা তৈরি হওয়া মানেই তা ধর্ষণ নয়।

আদালত মনে করে, এই মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল, তার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। কারণ, দীর্ঘকালীন একটি লিভ-ইন সম্পর্কে সম্মতির বিষয়টিই প্রধান হয়ে ওঠে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের মেলামেশার পর হঠাৎ করে 'ভুল বুঝেছি'– এই যুক্তি ধোপে টেকে না। এই রায়ের ফলে রাজ্যে লিভ-ইন সম্পর্ক এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের আইনি ব্যাখ্যায় এক নতুন মাত্রা যোগ হলো বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।‌





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন