Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় পিছোতে পারে

 

Final-voter-list

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের হাতেই থাকবে– এ কথা স্পষ্ট করে দিল শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি, নতুন করে সরকারি অফিসার যুক্ত হওয়ায় নথি যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়ে স্ক্রুটিনির সময়সীমা ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আরও অন্তত সাত দিন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবারের শুনানিতে রাজ্যের অফিসার নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। কমিশনের অভিযোগ ছিল, রাজ্য পর্যাপ্ত অফিসার দিচ্ছে না। রাজ্যের তরফে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, ৮৫০৫ জন গ্রুপ বি অফিসারের নাম জেলা ভিত্তিতে ৭ ফেব্রুয়ারি ইমেলের মাধ্যমে কমিশনকে পাঠানো হয়েছে। যদিও কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁদের কাছে নামের কোনও তালিকা পৌঁছায়নি। এ নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শুধু সংখ্যা নয়– নাম, পদ ও বিস্তারিত তথ্য না দিলে চলবে না।

শুনানিতে আরও উঠে আসে, এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি ও নথি যাচাইয়ের বাকি কাজের তদারকি কারা করবেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের দেওয়া গ্রুপ বি অফিসারদের মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে কাজে যোগ দিতে হবে। এই অফিসাররা ERO ও AERO-দের সহায়তা করবেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ERO-দের হাতেই থাকবে। দায়িত্বে গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের অপসারণ করার অধিকার থাকবে নির্বাচন কমিশনের।

এদিন আদালত জানায়, নতুন অফিসারদের সংক্ষিপ্ত বায়োডাটা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনে এক-দু’দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে, যাতে তাঁরা মাইক্রো অবজারভার হিসেবে কাজ করতে পারেন। রাজ্যের তরফে বলা হয়, বাংলা ভাষা জানা অফিসারদেরই এই কাজে লাগানো হচ্ছে, যাতে ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করা যায়।

এই নির্দেশের পর প্রশ্ন উঠছে, অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলে রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ কি পিছোবে? যদিও এখনও জাতীয় নির্বাচন কমিশন বা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। শুনানিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। 

অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন জায়গায় শুনানি কেন্দ্রে হামলা হয়েছে, আপত্তিপত্র পোড়ানো হয়েছে, অথচ অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও FIR দায়ের হয়নি। এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডেকে শোকজ করে ব্যক্তিগত হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দেয়। প্রধান বিচারপতি জানান, কমিশনের অভিযোগের পর রাজ্য পুলিশের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে ডিজিপিকে।

এদিনের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট একাধিক অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেছে। রাজ্যকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, ৮,৫৫৫ জন গ্রুপ বি অফিসার মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট করবেন। প্রয়োজনে বিদ্যমান ERO ও AERO বদল করার ক্ষমতাও কমিশনের থাকবে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, এসআইআর সংক্রান্ত সব অভিযোগ ও আপত্তির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করবেন ERO-রাই।‌





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন