সমকালীন প্রতিবেদন : সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সময়সূচি নতুন করে নির্ধারণ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। মঙ্গলবার কমিশনের তরফে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে পাঠানো চিঠিতে এই সংশোধিত কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে ঠিক ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করার কথা ছিল। তবে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই স্পষ্ট হয়ে যায়, ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছোতে চলেছে। সেই নির্দেশের সম্পূর্ণ অনুসরণ করতেই এসআইআর-এর প্রতিটি ধাপের নতুন সময়সীমা বেঁধে দিল কমিশন।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নোটিস সংক্রান্ত শুনানি চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নথি আপলোড, যাচাই ও নিষ্পত্তির অর্থাৎ স্ক্রুটিনির কাজ শেষ করতে হবে ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। পোলিং স্টেশনের র্যাশনালাইজেশন সম্পন্ন করার সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ভোটার তালিকার ‘হেলথ প্যারামিটার’ যাচাই চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সব প্রক্রিয়া শেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
চিঠিতে কমিশনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব আধিকারিক ও দফতরকে এই সংশোধিত সময়সূচি জানাতে হবে এবং তা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। আদালতের নির্দেশ মেনেই যাতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সম্পন্ন হয়, সেটাই কমিশনের লক্ষ্য বলে সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, গত সোমবারই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল দিল্লি যান। মঙ্গলবার নির্বাচন সদনে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পরেই নতুন সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়। এর আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, ২১ ফেব্রুয়ারির আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ সম্ভব নয় এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তালিকা প্রকাশের চেষ্টা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ৪ নভেম্বর থেকে বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনিউমারেশন ফর্ম বিলি শুরু করেন। পরে ৩০ নভেম্বর জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে খসড়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ বদলানো হয়।
তবে এসআইআর পর্বে কমিশনের কাজের পদ্ধতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠে। সাধারণ মানুষকে শুনানির নামে হয়রানি, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র অভিযোগে যোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টার মতো অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এবার গোটা সময়সূচি নতুন করে সাজাতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন