Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ বার ভূমিকম্পে কাঁপল সিকিম, উত্তরবঙ্গ জুড়ে আতঙ্ক

 

Earthquake-shook-Sikkim

সমকালীন প্রতিবেদন : বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পরপর ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিকিম। সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে মোট ১৩ বার কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও। দার্জিলিং, কালিম্পং, মিরিক, শিলিগুড়ি-সহ একাধিক জায়গায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়ায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর রাত দেড়টা নাগাদ সিকিমের গ্যালশিং এলাকায় প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৫। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। রাত ১টা ৯ মিনিট নাগাদ ওই কম্পন অনুভূত হওয়ার পর শুরু হয় একের পর এক আফটারশক।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিকিমের মঙ্গন এলাকায় সাত বার এবং নামচি এলাকায় চার বার কম্পন অনুভূত হয়েছে। গ্যাংটকে ৩.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। গ্যাংটক, লাচেন, পেলিং, নামচি, মঙ্গন ও পাকইয়ংয়ের মতো একাধিক এলাকায় কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।

ভূমিকম্পের প্রভাব উত্তরবঙ্গেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। দার্জিলিং পাহাড়ে কম্পনে কেঁপে ওঠে বাড়িঘর। সমতলে শিলিগুড়ি, মালবাজার-সহ উত্তরবঙ্গ ও অসম সীমান্তবর্তী এলাকাতেও মৃদু কম্পন টের পাওয়া যায়। এমনকি নেপালের কিছু অংশেও এই ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গভীর রাতে কম্পন হওয়ায় অনেকেই প্রথমে বুঝতে না পারলেও, খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্ক ছড়ায়। সিকিমের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে বহু পর্যটক মাঝরাতে হোটেল ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তার জন্য ঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় চলে যান। তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর কয়েক দিন আগেই বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সেই কম্পনের উৎসস্থল ছিল মিয়ানমার। রিখটার স্কেলে তার তীব্রতা ছিল ৬। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পটি মিয়ানমারের আকিয়াব থেকে প্রায় ৭০ মাইল পূর্বে আঘাত হানে এবং গত ৭১ ঘণ্টায় মিয়ানমারে এটি ছিল তৃতীয় ভূমিকম্প।

পরপর ভূমিকম্পের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের মধ্যে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন