Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রাথমিকের ৩২ হাজার চাকরি নিয়ে ফের আইনি লড়াই, সুপ্রিম কোর্টে ‌চ্যালেঞ্জ চাকরিপ্রার্থীদের

 

Challenge-in-Supreme-Court

সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রাথমিকের প্রায় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি নিয়ে আবারও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট-এর ডিভিশন বেঞ্চ যে রায়ে তাঁদের চাকরি বহাল রেখেছিল, সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একাংশ চাকরিপ্রার্থী সুপ্রিম কোর্ট-এ স্পেশ্যাল লিভ পিটিশন (এসএলপি) দায়ের করেছেন। আগামী সপ্তাহেই শীর্ষ আদালতে মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ৩ ডিসেম্বর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে দেয়। তার আগে ২০২৩ সালে প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রায় ৩২ হাজার ‘অপ্রশিক্ষিত’ শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। 

তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে এবং সঠিক পদ্ধতিতে ইন্টারভিউ ও অ্যাপটিটিউড টেস্ট নেওয়া হয়নি। যদিও তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন প্যানেল থেকে নিয়োগ করতে হবে এবং বাতিল হওয়া শিক্ষকদেরও নতুন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

ডিভিশন বেঞ্চ ভিন্ন মত পোষণ করে জানায়, দীর্ঘ ন’বছর পর একযোগে এতজন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হলে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়তে পারে। সেই যুক্তিতেই একক বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করা হয় এবং চাকরিরতরা স্বপদে বহাল থাকেন। তবে মামলাকারীদের দাবি, ‘মানবিকতার’ যুক্তিতে চাকরি বহাল রাখা আইনসঙ্গত নয়। অনিয়মের অভিযোগ থাকলে গোটা প্রক্রিয়ার পুনর্বিবেচনা জরুরি।

২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। ২০১৬ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং ৪২,৯৪৯ জনকে চাকরি দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার প্রার্থী প্রশিক্ষণহীন এবং যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়াই নিয়োগ পেয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা ওঠে হাইকোর্টে এবং একক বেঞ্চ কঠোর নির্দেশ দেয়।

এরপর প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও কর্মরত শিক্ষকেরা ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের পাশাপাশি নতুন করে ইন্টারভিউ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট ঘুরে ফের হাইকোর্টে আসে এবং দীর্ঘ শুনানির পর ডিভিশন বেঞ্চ চূড়ান্ত রায় দেয়।

এখন ডিভিশন বেঞ্চের সেই রায়ই চ্যালেঞ্জের মুখে। মামলাকারীদের বক্তব্য, নিয়োগে অসঙ্গতির সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও চাকরি বহাল রাখা ঠিক হয়নি। ফলে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। মার্চের প্রথম সপ্তাহেই মামলার শুনানি হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই আইনি টানাপোড়েন নতুন করে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষক এবং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে। শীর্ষ আদালতের রায়ের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন