সমকালীন প্রতিবেদন : ইংরেজি নতুন বছরের শুরুতেই বাংলার জন্য বড় উপহার ঘোষণা করল রেল মন্ত্রক। ১ জানুয়ারি কলকাতা–গুয়াহাটি রুটে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালুর কথা জানালেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেলমন্ত্রীর ইঙ্গিত অনুযায়ী, জানুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে এই আধুনিক স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, এ দিন রেলমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই পরিষেবা চালু করার প্রস্তুতি চলছে। তাঁর কথায়, “সম্ভবত ১৮ বা ১৯ জানুয়ারি ট্রেনটি চালু হতে পারে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উদ্বোধনের জন্য আবেদন করেছি। আগামী ২–৩ দিনের মধ্যেই দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।” সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জানুয়ারির মধ্যেই পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।
কলকাতা থেকে গুয়াহাটির মধ্যে চলাচল করবে এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। ট্রেনটিতে মোট ১৬টি কোচ থাকবে। তার মধ্যে ১১টি থ্রি-টিয়ার, ৪টি টু-টিয়ার এবং ১টি ফার্স্ট ক্লাস কোচ রাখা হচ্ছে। পুরো ট্রেনটিই হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, যাতে যাত্রীদের দীর্ঘ যাত্রা আরও আরামদায়ক হয়। নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। ট্রেনে থাকছে আধুনিক ‘কবচ’ সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইমার্জেন্সি টক ব্যাক সিস্টেম।
রুট প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, হাওড়া থেকে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি ব্যান্ডেল, কাটোয়া হয়ে মালদা টাউন পৌঁছবে। সেখান থেকে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি), নিউ কোচবিহার ও নিউ বঙ্গাইগাঁও হয়ে শেষ পর্যন্ত গুয়াহাটি পৌঁছবে এই বন্দে ভারত স্লিপার। ফলে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জেলা সরাসরি এই পরিষেবার আওতায় আসবে।
এই ট্রেনের মাধ্যমে অসমের কামরূপ মেট্রোপলিটন ও বঙ্গাইগাঁও জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, মালদা, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলা যুক্ত হবে। এর ফলে উত্তরবঙ্গ, অসম ও কলকাতার মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চলাচলের সময়সূচি নিয়েও প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। সন্ধ্যাবেলা ট্রেন ছেড়ে পরদিন সকালে গন্তব্যে পৌঁছনোর মতো করেই সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে। এতে কর্মজীবী ও দূরপাল্লার যাত্রীদের বিশেষ সুবিধা হবে বলে মনে করছে রেল। সব মিলিয়ে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু হলে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগে এক নতুন দিগন্ত খুলবে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন