Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে বদলাচ্ছে শীতের চালচিত্র, দক্ষিণবঙ্গে বাড়বে তাপমাত্রা

 

Temperatures-rise

সমকালীন প্রতিবেদন : সোমবার থেকেই শীতের খেলার ছক বদলাতে শুরু করেছে। আবহাওয়া দফতরের ইঙ্গিত, উত্তুরে হাওয়ার দাপটে আপাতত খানিকটা ভাটা পড়ছে। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখনও ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রির কাছাকাছি। পশ্চিমের জেলাগুলিতে যেখানে এতদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল, সেখানেও সোমবার থেকে পারদ ধীরে ধীরে চড়তে শুরু করবে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার থেকে বুধবারের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। কলকাতায় রাতের তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাপমাত্রা বাড়লেও কুয়াশার ভোগান্তি থাকছেই। সোমবার সকাল থেকেই বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনায় বিক্ষিপ্তভাবে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শীতের তীব্রতা কমলেও আগামী কয়েক দিন পারদ থাকবে ঊর্ধ্বমুখী। সোমবার কলকাতায় আগের দিনের তুলনায় সামান্য তাপমাত্রা বেড়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই অনুমান।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আলাদা। আগামী কয়েক দিন সেখানে হাড়হিম ঠান্ডার সঙ্গে ঘন কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মালদহ এবং দুই দিনাজপুরের কিছু এলাকায় দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘন কুয়াশার সতর্কতা সোমবার পর্যন্ত বহাল থাকবে। যদিও আগামী পাঁচ দিনে উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। পাহাড়ি এলাকায়—দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো উঁচু জায়গায়—তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। নিচু জেলাগুলিতে পারদ ৮ থেকে ১১ ডিগ্রির মধ্যে থাকার সম্ভাবনা।

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ—দুই অঞ্চলেই আপাতত আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকায় দৃশ্যমানতা ৯৯৯ মিটার থেকে কমে ২০০ মিটার পর্যন্ত নেমে আসতে পারে। কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটার পর্যন্ত নামার সতর্কতা জারি রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে আগামী দু’দিনে রাতের তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বাড়বে। তার পরের চার দিনে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। উত্তরবঙ্গে আগামী সাত দিন রাতের তাপমাত্রা প্রায় একই থাকবে।

আবহাওয়া দফতরের মতে, শীতের এই আচমকা ভোলবদলের নেপথ্যে রয়েছে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি ১৯ ও ২১ জানুয়ারি নতুন করে আরও দু’টি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থানে একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং কোমোরিন এলাকায় একটি ‘আপার এয়ার সার্কুলেশন’ তৈরি হওয়ায় উত্তুরে হাওয়া বাধা পাচ্ছে। তার জেরেই তাপমাত্রা বাড়ছে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।

আগামী কয়েক দিন সকালের দিকে কুয়াশার দাপট থাকলেও বেলা বাড়লে আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে। বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৪৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার তাপমাত্রা ১৩ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা।

তাপমাত্রার হিসেবে দেখা গেলে, দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই পারদ ১০ ডিগ্রির উপরে উঠে গিয়েছে। সোমবার দক্ষিণবঙ্গের শীতলতম স্থান ছিল নদিয়ার কল্যাণী—সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পানাগড়ে পারদ নেমেছিল ৯.৮ ডিগ্রিতে। উত্তরবঙ্গে দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কালিম্পংয়ে ৯.৫ ডিগ্রি। অন্যত্র পারদ ১০ থেকে ১৩ ডিগ্রির মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে। কলকাতার উপকণ্ঠ সল্টলেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পৌঁছেছে ১৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন