সমকালীন প্রতিবেদন : মহকুমা শাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে সরকারি আধিকারিকদের কাছ থেকে ফর্ম ৭ বোঝাই ফাইল ছিনতায়ের অভিযোগ তুললেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। পাশাপাশি সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন বিধায়ক।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার আজই শেষ তারিখ ছিল। এই ফর্ম জমা করাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়েই নানা ধরনের গোলমালের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের নেতা, কর্মীরা এই ফর্ম জমা করতে বাধা দিচ্ছে। কোথাও কেড়ে নিয়ে তা নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কোনভাবেই স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রকাশ করার পক্ষে নয়।
একই ধরনের অভিযোগ তুলে বনগাঁতেও গোলমাল শুরু হয়েছে। ফর্ম ৭ সঠিকভাবে জমা করার দাবিকে সামনে রেখে ১৪ জানুয়ারি বনগাঁ মহকুমার তিন বিজেপি বিধায়ক মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করেন। তাঁরা দাবি তুলেছেন, ফর্ম ৭ সঠিকভাবে জমা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
সেই দাবীকে সামনে রেখেই সোমবার বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া ফর্ম ৭ বোঝায় বেশ কিছু ফাইল নিয়ে বনগাঁর মহকুমা শাসকের দপ্তরে হাজির হলে শুরু হয় গোলমাল। বিধায়কের অভিযোগ, তিনি যতগুলি ফর্ম ৭ বোঝায় ফাইল মহকুমা শাসকের দপ্তরে জমা করেছেন তার মধ্যে ১০ টি ফাইল দফতরের আধিকারিকদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী।
বিধায়কের আরো অভিযোগ, 'ফর্ম জমা নেওয়ার আজই শেষ দিন থাকা সত্ত্বেও মহকুমা শাসক এদিন দপ্তরেই হাজির হননি। তাঁকে এবং ইলেকশন দপ্তরের আধিকারিকদের বহুবার ফোন করার পরেও তাঁরা কেউ ফোন তোলেননি। একইভাবে অসহযোগিতা করেছে পুলিশও।' এ ব্যাপারে তিনি গোটা বিষয়টি দলীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করছেন বলে তিনি জানান।
পাশাপাশি তিনি আরো জানান, 'আমরা চাই, একজন বৈধ ভোটারেরও যেন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ না যায়। একইসঙ্গে ভোটার তালিকায় একজন অবৈধ ভোটারেরও যেন নাম না থাকে। আর তৃণমূল চায় না যে, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রকাশ পাক। যতক্ষণ পর্যন্ত না রাজ্যে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে, ততক্ষণ রাজ্যে নির্বাচন হবে না।'
অন্যদিকে এদিন মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী, সমর্থকরা। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, 'বিজেপি বিধায়ক পরিকল্পিতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা তার প্রতিবাদ করছি। ভোটার তালিকায় নাম থাকা বৈধ ভোটারদের নতুন করে তাদের বৈধতা প্রমাণ করতে শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।' এদিন মহকুমা শাসকের দপ্তরের বাইরে প্রচুর ফর্ম ৭ ছেঁড়া অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিজেপির অভিযোগ, মহকুমা শাসকের দপ্তরে জমা করা এইসব ফর্ম ৭ তৃণমূলের কর্মীরা দপ্তর থেকে ছিনতাই করে এনে সেই ফর্মগুলি নষ্ট করে দিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই মহকুমা শাসকের দপ্তর এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বজায় থাকে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়াকে মহকুমা শাসকের অফিস চত্বরে আটকে থাকতে হয়। পরে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ঘেরাটোপে দপ্তর থেকে বেরিয়ে কোনরকমে গাড়িতে উঠে এলাকা ছাড়তে হয় বিধায়ককে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন