সমকালীন প্রতিবেদন : ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার আবেদন বা 'ফর্ম–৭' জমা নেওয়া বন্ধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল বনগাঁ মহকুমা শাসকের কার্যালয় চত্বর। প্রশাসনিক অসহযোগিতার প্রতিবাদে মহকুমা শাসক উর্মি দে বিশ্বাসের ঘরের সামনেই মেঝেতে বসে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভ করলেন বনগাঁর তিন বিজেপি বিধায়ক– অশোক কীর্তনিয়া, সুব্রত ঠাকুর এবং স্বপন মজুমদার। প্রশাসনের এই ভূমিকার পিছনে 'ভুতুড়ে ফোন' এবং 'রাজনৈতিক অভিসন্ধি'র অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারী বিধায়কদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া এবং নির্দেশিকা অনুযায়ী, এআরও-রা সীমাহীন সংখ্যক ফর্ম–৭ গ্রহণ করতে পারেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই কাজ স্বাভাবিকভাবে চললেও, বুধবার সকালে হঠাৎ করেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিজেপি বিধায়কদের অভিযোগ, সকালে বেশ কিছু ফর্ম জমা নেওয়ার পর একটি 'রহস্যময়' ফোন আসতেই কাজ থামিয়ে দেন কর্মীরা। এমনকি জমা পড়া কিছু ফর্মও পরবর্তীকালে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতেই পরিকল্পিতভাবে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছে।" প্রায় একই সুরে বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া অভিযোগ করেন, "প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মানছে না। ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া আটকাতে এসডিও এবং বিডিওরা দলদাসের মতো কাজ করছেন।"
বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদার জানান, 'দেশের সুরক্ষার স্বার্থে আমরা এই দেশে কোনও সন্দেহজনক অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গাদের থাকতে দেব না। এলাকার বহু সাধারণ মানুষ এদিন আপত্তি জানাতে ফর্ম জমা দিতে এসেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের অসহযোগিতায় তাঁরা চরম সমস্যায় পড়েছেন।' বিষয়টি নিয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিজেপির এই বিক্ষোভকে বিশেষ আমল দিতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস পালটা তোপ দেগে বলেন, "বিজেপি বিধায়কেরা নিয়ম জানেন না এবং মানতেও চান না। নিয়ম অনুযায়ী একজন বিএলও-র কাছে ১০টি করে ফর্ম জমা দেওয়ার কথা। সেখানে লরি ভরে ভরে ফর্ম নিয়ে আসা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।"
বুধবার দীর্ঘক্ষণ মহকুমা শাসকের দপ্তরের মেঝেতে বসে বিধায়করা বিক্ষোভ দেখানোর ফলে বনগাঁ মহকুমা কার্যালয় চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ বাহিনী। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তরফে কোনো স্পষ্ট সদুত্তর না মেলায় ক্ষোভ কমেনি বিজেপি শিবিরের। ঘটনার জেরে সীমান্ত শহর বনগাঁর রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন