Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

নিরাপত্তা নিয়ে এখনও অনড় অবস্থানে বিসিবি, বাংলাদেশকে ছাড়াই কি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজিত হবে?

  

T20-World-Cup

সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতের মাটিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। সময় যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অর্থাৎ বিসিবি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল অর্থাৎ আইসিসির অবস্থান কার্যত মুখোমুখি। মঙ্গলবার আইসিসি ফের একবার বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে যে আশঙ্কা বাংলাদেশের তরফে তোলা হয়েছে, তার বাস্তব ভিত্তি নেই এবং ভারত থেকে ম্যাচ সরানোর প্রশ্নই ওঠে না। পালটা বিসিবিও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের পক্ষে ভারতে দল পাঠানো সম্ভব নয়। ফলে অচলাবস্থা কাটার কোনও তাৎক্ষণিক ইঙ্গিত নেই।

নিরাপত্তা ইস্যুতে ইতিমধ্যেই দু’বার আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যেই বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আইসিসির ‘ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট’ নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক বাড়ান। তাঁর দাবি ছিল, মুস্তাফিজুর রহমান দলে থাকলে নিরাপত্তা সমস্যা বাড়বে, এমনকি বাংলাদেশের জার্সি পরলেও ঝুঁকি থাকতে পারে। পাশাপাশি নির্বাচনী আবহে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলেও দাবি করা হয়। তবে আইসিসির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই দাবি বিভ্রান্তিকর ও অসত্য।

আইসিসির নিরাপত্তা দলের পাঠানো চিঠিতে তিনটি সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ থাকলেও, স্বাধীনভাবে করা ‘রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’-এ বলা হয়েছে, ভারতে বাংলাদেশ খেলতে এলে গুরুতর নিরাপত্তা সমস্যার আশঙ্কা নেই। কলকাতা ও মুম্বইয়ে নির্ধারিত ম্যাচগুলিতে ঝুঁকির মাত্রা ‘লো টু মডারেট’– অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক হয়। বাংলাদেশের তরফে বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মহম্মদ শাকাওয়াত হোসেন-সহ শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকেই আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, টুর্নামেন্ট এত কাছে এসে যাওয়ায় ম্যাচ স্থানান্তর সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

তবে ঢাকায় ফেরার পর বিসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড়। বোর্ডের বক্তব্য, ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও আধিকারিকদের নিরাপত্তাই তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সেই কারণেই ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে তারা রাজি নয়। 

ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন হতে আর মাসখানেকেরও কম সময় বাকি। সব আয়োজন প্রায় চূড়ান্ত। এই পরিস্থিতিতে যদি বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত বদল না করে, তবে কার্যত বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন উঠছে– শেষ পর্যন্ত কি বাংলাদেশকে ছাড়াই হতে চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ?‌‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন