সমকালীন প্রতিবেদন : মকর সংক্রান্তির রাত পেরোলেই শুরু হচ্ছে মাঘ মাস। আর মাঘের প্রথম দিন থেকেই জাঁকিয়ে শীতের ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর। আলিপুর সূত্রে খবর, বুধবার রাতের পর থেকে রাজ্যে আরও কমতে পারে তাপমাত্রা। আগামী ১৫ থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাজুড়ে জোরালো শীতের স্পেল দেখা যেতে পারে। সরস্বতী পুজোর দিন পর্যন্ত এই শীতের আমেজ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি জানুয়ারির শেষ দিকেও ভোর ও রাতের দিকে ঠান্ডার দাপট থাকবে বলে পূর্বাভাস। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে শীত বিদায় নিতে পারে রাজ্য থেকে।
কলকাতায় গত দু’দিন ধরে কনকনে শীত কিছুটা হলেও বিরতি নিয়েছে। তবে দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে ঠান্ডার তীব্রতা কমেনি। উত্তরবঙ্গেও হাড়কাঁপানো শীত অব্যাহত। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী সাত দিনে রাজ্যের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় খুব একটা পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ সংক্রান্তি থেকে মাঘের শুরু—দু’পর্বেই থাকবে জাঁকিয়ে শীত। শনিবার পর্যন্ত রাজ্যের সর্বত্র কুয়াশার দাপট থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা নেমে যেতে পারে ৫০ মিটারে। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে আগামী দু’দিন ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা প্রবল।
কলকাতায় মঙ্গলবার রাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে। সোমবার যেখানে তা ছিল ১৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মঙ্গলবার তা বেড়ে হয়েছে ১৩.৭ ডিগ্রি। তবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে—২৩.৭ ডিগ্রি থেকে নেমে ২৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় শহরের তাপমাত্রা ১২ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচেই থাকার সম্ভাবনা। মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে ঠান্ডা ছিল বাঁকুড়া—সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। উত্তরবঙ্গে কোচবিহারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৬ ডিগ্রি, দার্জিলিঙে পারদ নেমে গিয়েছিল ৩.৪ ডিগ্রিতে।
আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে, বুধবার বিকেলের পর থেকে রাজ্যে ‘উত্তুরে হাওয়া’র দাপট বাড়বে। এর প্রভাবেই রাতের তাপমাত্রা আরও নামতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যাবে। বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় কুয়াশার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। দার্জিলিং ও উত্তর দিনাজপুরে দৃশ্যমানতা ১৯৯ থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় বুধবার ও শুক্রবার সকালের দিকে ঘন কুয়াশার সতর্কতা রয়েছে। কোথাও কোথাও বেলা বাড়লেও কুয়াশা কাটতে দেরি হতে পারে। তবে দুপুরের পর আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা। উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। সমতলের জেলাগুলিতে তা ৮ থেকে ১১ ডিগ্রির আশেপাশে থাকবে।
এদিকে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে সক্রিয় রয়েছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। ১৫ জানুয়ারি নতুন করে আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এর জেরে দিল্লি, পাঞ্জাব, চণ্ডীগড় ও হরিয়ানায় চরম শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কড়াইকলে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন