সমকালীন প্রতিবেদন : শুক্রবার পুজো দিতে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে আসছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার থেকেই গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল শুরু হয়েছে। আচমকাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ঠাকুরবাড়ির মন্দির চত্বরের সামনে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের বাসভবনের সামনেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে মতুয়া সমাজের অন্দরেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর অভিযোগ করেছেন, শান্তনু ঠাকুর নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঠাকুরবাড়ি ঘিরে ফেলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি ঠাকুরবাড়িতে ঢুকতে পারে, তা হলে রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে আপত্তি কোথায়?
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছেন, একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঠাকুরবাড়ি চত্বর সুরক্ষিত রাখার কারণেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো দিতে আসবেন—এতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন। তবে তাঁর দাবি, এই সফরকে কেন্দ্র করে যে পরিমাণ রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা প্রধানমন্ত্রী সফরের ক্ষেত্রেও সচরাচর দেখা যায় না।
সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠাকুরনগর সফরকে ঘিরে প্রশাসন কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে গোটা এলাকায় কড়া নজরদারি ও শক্ত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন