Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ঠাকুরবাড়িতে অভিষেক: নির্বিঘ্নে পুজো দিয়ে মতুয়াদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিজেপিকে নিশানা

Avishek-Banerjee-at-Thakurbari

সমকালীন প্রতিবেদন : যাবতীয় জল্পনা ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার ঠাকুরনগরে মতুয়া ধর্মমহাসংঘের পীঠস্থান ঠাকুরবাড়িতে পুজো দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিনভর টানটান উত্তেজনা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় তাঁর এই কর্মসূচি। এদিন ঠাকুরবাড়ি থেকে একদিকে যেমন ধর্মীয় আচার পালন করেন অভিষেক, অন্যদিকে নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণও শানান তিনি। অভিষেকের এদিনের কর্মসূচিতে মমতা ঠাকুরের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পার্থ ভৌমিক, নারায়ণ গোস্বামী, মধুপর্ণা ঠাকুর, জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস সহ অন্যান্যরা।

শুক্রবার সড়কপথে বনগাঁ থেকে ঠাকুরনগরে পৌঁছান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুর ও মতুয়া মহাসংঘের পদাধিকারীরা। অভিষেক একে একে মতুয়া ধর্মের প্রবর্তক শ্রী শ্রী হরিচাঁদ–গুরুচাঁদ ঠাকুর, শান্তি সত্যভামা, বিনাপানি ঠাকুরের মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন এবং বিগ্রহে মাল্যদান করেন। তিনটি মন্দিরে পর্যায়ক্রমে পুজো সারেন তিনি। এদিন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বড়মার ঘরের দৃশ্যটি। সেখানে ঢোকার সময় মমতা ঠাকুর অভিষেককে মতুয়া সম্প্রদায়ের বিশেষ প্রথায় বরণ করে নেন। মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে বিভিন্ন স্মারক এবং উপহারও প্রদান করা হয়।

পুজো শেষে বড়মার ঘর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুর চড়ান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মতুয়াদের নাগরিকত্ব এবং এসআইআর ইস্যুকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধে তিনি বলেন, "বিজেপি সরকার মতুয়া ভাইদের ভোটে জিতে এখন তাঁদেরই বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে। নিঃশর্ত নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন এসআইআর-এর নামে নানা নথিপত্র চাওয়া হচ্ছে। এটা মতুয়াদের আবেগের সঙ্গে খেলা ছাড়া আর কিছু নয়।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঠাকুরনগরে এসে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার একটিও আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। মতুয়ারা কেন্দ্রের বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি মতুয়াদের জন্য তৃণমূল সরকারই নানারকম উন্নয়ন করেছেন বলে দাবি করেন অভিষেক। তারমধ্যে ঠাকুরবাড়ির উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরনগর স্টেশন ইত্যাদি রয়েছে।

বক্তব্যের শেষে বিজেপিকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের খোলা চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন অভিষেক। তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি না করে বিজেপি যদি সাহস থাকে তবে তাদের কাজের 'রিপোর্ট কার্ড' নিয়ে ময়দানে নামুক। উন্নয়নের নিরিখে তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে প্রস্তুত বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। এদিনের কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল আঁটোসাঁটো। অভিষেকের এই সফরকে কেন্দ্র করে মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে নতুন কি সমীকরণ তৈরি হয়, তার দিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন