সমকালীন প্রতিবেদন : ইডেনে প্রায় ছ’ বছর পর ফিরল লাল বলের টেস্ট, আর সেই প্রত্যাবর্তনের দিনেই নাটকীয় মোড় এনে দিল ভারতীয় পেস বিভাগ—বিশেষ করে জশপ্রীত বুমরা। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস মাত্র ১৫৯ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ভারতের হাতে এলেও ব্যাট হাতে দিনশেষে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করতে পারেনি ভারতীয় দল। ২০ ওভারে ১ উইকেটে ভারতের সংগ্রহ ৩৭। এখনও ১২২ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা।
দিন শেষে ড্রেসিংরুমের সামনে দেখা যায় গৌতম গম্ভীরকে—সিএবির প্রধান পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাসিমুখে আলোচনা করতে। ইডেনের অনিয়মিত বাউন্স ও দুই-রকম আচরণের পিচ নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে সকলের। বিশেষজ্ঞদের মত, দ্বিতীয় সকালে পিচ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে ব্যাটসম্যানদের জন্য। ফলে ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপ কীভাবে সামলায়, তা নিয়েই চূড়ান্ত কৌতূহল।
এদিন খেলার শুরুটা কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে বেশ ইতিবাচক ছিল। প্রথম ১০ ওভারে কোনও বিপদ ছাড়াই ওপেনার মার্করাম ও রিকেলটন তোলেন ৫৭ রান। কিন্তু বুমরার ১১তম ওভারের আগুনঝরা স্পেল মুহূর্তে পাল্টে দেয় ছবিটা। বোল্ড হয়ে ফেরেন রিকেলটন, কিছু পরেই বুমরার আরেক ঝটকায় আউট মার্করাম। পর পর সাফল্যে ছন্দে ফেরেন ভারতীয় বোলাররা। কুলদীপ যাদব ফেরান অধিনায়ক বাভুমাকে। এরপর ক্রমান্বয়ে উইকেট হারিয়ে চা-বিরতির আগেই দিশেহারা দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিরতির পর মাত্র পাঁচ রান যোগ করতেই শেষ হয়ে যায় প্রোটিয়া ব্যাটিং। বুমরার ঝুলিতে পাঁচ উইকেট, সঙ্গে গড়ে ওঠে এক ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান—১৭ বছর পর ভারতের মাটিতে কোনও ভারতীয় পেসার টেস্ট ম্যাচে এক দিনে পাঁচ উইকেট তুললেন। কুলদীপ ও সিরাজ নেন দুটি করে উইকেট, অক্ষর প্যাটেল পান একটি।
এদিন ইডেনে উপস্থিত ছিলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। ভিড়ে ঠাসা গ্যালারি উপভোগ করেছে ভারতীয় বোলারদের দাপট, বিশেষ করে বুমরার ‘স্পেল অব ফায়ার’। দিনশেষে ভারতের একমাত্র উইকেটের ক্ষতি—১০ রানে যশস্বী জয়সওয়াল মার্কো জানসেনের শিকার।
১৩ রানে ক্রিজে অপরাজিত লোকেশ রাহুল ও ৬ রানে ওয়াশিংটন সুন্দর। দ্বিতীয় দিনের সকালে ভারতীয় দলের দায়িত্ব হবে প্রথম সেশনে বড় কোনও ধস এড়ানো ও প্রোটিয়াদের লিড দ্রুত চেপে ধরা। ম্যাচের মোড় কোন দিকে ঘুরবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে শনিবার সকালের বাউন্স আর ভারতের শুরুর ব্যাটিংয়ের উপর।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন