Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫

ঠাকুরনগরে দুই গোষ্ঠীর ভিন্ন অবস্থান, অভিষেকের বার্তা নিয়ে অনশন মঞ্চে তৃণমূলের দুই প্রতিনিধি

 

TMC-team-on-hunger-strike-stage

সমকালীন প্রতিবেদন : ঠাকুরনগরে মতুয়া সমাজে দ্বন্দ্ব চরমে। একদিকে এসআইআর-এর বিরোধিতা এবং নিঃশর্ত নাগরিকত্বের দাবিতে মমতা ঠাকুরের নেতৃত্বে চলছে আমরণ অনশন। অন্যদিকে শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী উল্টো পথে‌– এসআইআরকে সমর্থন করে এবং সিএএ-তে আবেদনকে উৎসাহিত করে পাল্টা কর্মসূচি করছে। দুই শিবিরের বিপরীত অবস্থানকে ঘিরে সরগরম ঠাকুরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা।

সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে বড়মা বীণাপাণি দেবীর ঘরের সামনে চলছে আমরণ অনশন। নেতৃত্বে রয়েছেন সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর। তাঁর সঙ্গে গোঁসাই, পাগল সহ কয়েকজন মতুয়া সন্ন্যাসী ও চিকিৎসকরাও অনশন মঞ্চে সামিল হয়েছেন। ১২ দিনে পা দেওয়া এই আন্দোলনের মূল দাবি– এসআইআর-এর জটিল প্রক্রিয়া প্রত্যাহার বা সরলীকরণ, উদ্বাস্তু মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য নিঃশর্ত নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা।

অভিযোগ, অত্যধিক কাগজপত্রের শর্ত ও এসআইআর-এর নিয়ম উদ্বাস্তু পরিবারের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই অনশনকারীদের দাবি, এই নিয়ম তুলে নিয়ে মতুয়াদের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্ব সংকটের অবসান ঘটাতে হবে। আর এই দাবিগুলিকে সামনে রেখে চলা অনশন আন্দোলনের এই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকে নৈতিক সমর্থ জানিয়েছে রাজ্যের একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন।

অন্যদিকে সারা ভারত মতুয়া সংঘের শান্তনু ঠাকুর নেতৃত্বাধীন অংশ সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। তাঁদের উদ্যোগে ঠাকুরনগর ও সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ করে এসআইআর সমর্থনে প্রচার চালানো হচ্ছে। প্রচারে বলা হচ্ছে– প্রত্যেক নাগরিককে এসআইআর-এ আবেদন করতেই হবে, নমঃশূদ্র, উদ্বাস্তু ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে সিএএ-তে আবেদন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এই প্রচার অভিযানে শান্তনু গোষ্ঠীর দাবি, সিএএ ও এসআইআর গ্রহণ করলেই মতুয়াদের নাগরিকত্বের জট কাটবে। ফলে দুই গোষ্ঠীর বক্তব্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য সামনে এসেছে।

এইরকম আবহে ঠাকুরনগরে মতুয়াদের চলমান আমরণ অনশন নতুন মোড় নিল শনিবার। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ বার্তা নিয়ে অনশন মঞ্চে হাজির হলেন দলের এক প্রতিনিধি দল। মন্ত্রী শশী পাঁজা ও স্নেহাশিস চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ওই দল সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘের সংঘাপতি মমতা ঠাকুরের কাছে অভিষেকের বার্তা পৌঁছে দেন।

অভিষেকের বার্তায় জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মতুয়াদের আন্দোলন স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘ পথ চলার লড়াই। এই লড়াই চালিয়ে যেতে হলে আন্দোলনকারীদের সুস্থ থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাই আমরণ অনশন চালিয়ে গেলে আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলেই তিনি মনে করেন। বার্তায় তিনি মতুয়া আন্দোলনকারীদের অনুরোধ করেন– প্রতিবাদ জারি থাকুক, তবে শরীর যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অনশন আন্দোলন যেন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

অনশন মঞ্চে উপস্থিত হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রবল আক্রমণ শানান স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, মতুয়া সমাজের ভোটেই বিজেপির সাংসদ ও মন্ত্রী হয়েছেন, অথচ এখন তাঁরাই নাগরিকত্বের জন্য কাগজপত্র চাইছেন। যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা পূরণ করা অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। শশী পাঁজার কথায়, '‌বড়মা-র স্পষ্ট নির্দেশ ছিল– মতুয়া সমাজের প্রত্যেককে নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিতে হবে। আজ শান্তনু ঠাকুর সেই দাবিকেই অনৈতিক বলছেন, অথচ অনৈতিকতা কোথায় আছে তা জনগণই বিচার করবে।'

অভিষেকের বার্তা পেলেও মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর জানিয়েছেন, অনশন অব্যাহত থাকবে কি না– তা এখনই বলা যাচ্ছে না। সংগঠনের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সোমবার তা প্রকাশ্যে জানানো হবে। ১২ দিন ধরে চলতে থাকা এই অনশনে বহু আন্দোলনকারী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সংগঠনের দাবি, চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তবু ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যাচ্ছে না।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন