সমকালীন প্রতিবেদন : ১৬ ডিসেম্বরের মিনি নিলামকে সামনে রেখে নয়া পরিকল্পনায় ব্যস্ত কলকাতা নাইট রাইডার্স। তহবিলে রয়েছে ৬৪.৩০ কোটি টাকা। ফলে দলে বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার সুযোগ থাকছে নাইটদের সামনে। গত মরশুমে ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডার, ফিনিশিং ভূমিকা থেকে ডেথ ওভারের বোলিং– কোথাওই স্থায়িত্ব পায়নি কেকেআর। সেই ঘাটতিগুলো পূরণ করতেই আক্রমণাত্মক মনোভাবে নিলামে নামতে চলেছে কেকেআর।
পাশাপাশি একজন দক্ষ উইকেটকিপার-ব্যাটার এবং অভিজ্ঞ বিদেশি ফাস্ট বোলার দলে নেওয়া কেকেআরের অন্যতম বড় লক্ষ্য। গত বছর মিচেল স্টার্কের বিকল্প হিসেবে ২.৮০ কোটি টাকায় আনা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার স্পেনসার জনসনকে। কিন্তু প্রত্যাশার ধারে কাছে পৌঁছতে পারেননি তিনি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে কেকেআর।
এই শূন্যস্থান ভরাটে এবার নজরে ইংল্যান্ডের লিউক উড। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৯৯ ম্যাচে তাঁর উইকেটসংখ্যা ২১০। পিএসএল, আইএলটি২০ ও বিগ ব্যাশ– তিনটি লিগেই খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ২০২৪ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলেছেন। ডানহাতি-বাঁহাতি– দু’দিকেই সুইং করানোর ক্ষমতা তাঁকে কেকেআরের ভবিষ্যৎ পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা করে তুলতে পারে।
গত মরশুমে ধারাবাহিকতার অভাবে রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও কুইন্টন ডি'কক– দু’জনকেই ছেড়ে দিয়েছে কেকেআর। সেই জায়গায় নিলামে বড় দৌঁড়ে থাকতে পারেন ইংল্যান্ডের টম ব্যান্টন। ওপেনিংয়ের পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়েও তিনি সমান দক্ষ। বিকল্প হিসেবে নজরে রয়েছেন জস ইংলিশও। পাঞ্জাব কিংস তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে।
গত মরশুমে ১১ ম্যাচে করেছিলেন ২৭৮ রান, স্ট্রাইক রেট ১৬২.৫৭– যা কেকেআরের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নীতির সঙ্গে দারুণ মানানসই। কেকেআরের নজর পড়েছে ক্যামেরন গ্রিনের দিকে। ব্যাট-বলে সমান দক্ষ এই অজি অলরাউন্ডার ২৯টি আইপিএল ম্যাচে রান করেছেন ৭০৭, নিয়েছেন ১৬ উইকেট।
তাঁকে দলে পেলে মিডল অর্ডার, ফিনিশার ভূমিকা এবং পেস বোলিং– তিন বিভাগেই ভারসাম্য বাড়বে বলে মনে করছে কেকেআর শিবির। গত মরশুমে ওপেনিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব কেকেআরকে ভাবিয়েছে। এবারে ওপেনার হিসেবে নিঃশব্দে এগিয়ে আসতে পারেন পৃথ্বী শ। আগের নিলামে অবিক্রীত থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্ম, দুটি সেঞ্চুরি– তাঁকে নিলামের অন্যতম আকর্ষণ করে তুলতে পারে।
গতবার ১.৫ কোটি টাকায় অজিঙ্কা রাহানেকে দলে পেয়েছিল কেকেআর। অধিনায়ক হিসেবেও ভরসার প্রতিদান দিয়েছিলেন তিনি– ১৩ ম্যাচে ৩৯০ রান। শোনা যাচ্ছিল, অধিনায়কত্বের জন্য কেএল রাহুলকে টার্গেট করতে পারে কলকাতা। তবে শেষ পর্যন্ত রাহানের প্রতি আস্থা রেখেছে ম্যানেজমেন্ট। আগামী মরশুমেও নেতৃত্ব তাঁর হাতেই থাকার সম্ভাবনা প্রবল।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন