Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

জুবিন গর্গের অকাল প্রয়াণ স্কুবা ডাইভিং এর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল

 

Scuba-diving

সমকালীন প্রতিবেদন : সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রয়াত হলেন জনপ্রিয় গায়ক ও সুরকার জুবিন গর্গ। মাত্র ৫২ বছর বয়সে তাঁর অকাল প্রয়াণে স্তব্ধ অসম, শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দেশে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—স্কুবা ডাইভিং কি আদৌ নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ম মেনে এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে স্কুবা ডাইভিং করলে ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে। তবু এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। সবচেয়ে বড় বিপদ আসে ডিকমপ্রেশন সিকনেস থেকে। গভীর জলে বায়ুচাপে হঠাৎ পরিবর্তন হলে শরীরে নাইট্রোজেন বুদবুদ তৈরি করে। এর ফলে জয়েন্টে ব্যথা, বিভ্রান্তি, পক্ষাঘাতের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এছাড়া নোনা জলের ৮০–১০০ ফুট গভীরে গেলে দেখা দেয় নাইট্রোজেন নারকোসিস। এতে ডাইভার অস্বাভাবিকভাবে মাতাল অবস্থার মতো আচরণ করতে পারেন। সময়মতো তা চিহ্নিত না করতে পারলে এর ফলও প্রাণঘাতী হতে পারে।

স্কুবা ডাইভিংয়ের আগে সাঁতার জানা বাধ্যতামূলক। শ্বাস-প্রশ্বাসের বিশেষ অনুশীলনও প্রয়োজন। তবে জানা গেছে, জ়ুবিন গর্গ মৃগীর রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের স্নায়বিক সমস্যা থাকলে স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে অংশ নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

ভারতের আন্দামান-নিকোবর, গোয়া, পুদুচেরি বা লাক্ষাদ্বীপের মতো পর্যটন কেন্দ্রে স্কুবা ডাইভিং জনপ্রিয় হলেও সাধারণত প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে জলে নামতে দেওয়া হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষক সঙ্গে থাকেন। খরচ পড়ে প্রায় ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা, আর পুরো কোর্স করতে হলে ১০ থেকে ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগে।

তবে যতই নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকুক না কেন, হঠাৎ শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে মারাত্মক পরিণতি ঘটতে পারে। জুবিন গর্গের অকাল প্রয়াণ সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিল—অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে আনন্দের পাশাপাশি কতটা ঝুঁকি লুকিয়ে রয়েছে?‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন