সমকালীন প্রতিবেদন : কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় চলছে মাঝারি বৃষ্টির দাপট। প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই, তবে বৃষ্টি কমার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস জানাচ্ছে, মৌসুমী অক্ষরেখা বর্তমানে হিমালয়ের পাদদেশ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মধ্য বাংলাদেশে সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত দক্ষিণ দিকে ঝুঁকে রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব আসাম ও সংলগ্ন অরুণাচল প্রদেশ এবং হিমাচল প্রদেশ–উত্তরাখণ্ড সীমান্তেও ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয়। ফলে রাজ্যজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি চলবে।
সপ্তাহান্তে উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হবে। সোমবার অতি ভারী বৃষ্টিতে ভিজতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি, পাশাপাশি কোচবিহারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গল ও বুধবারও এই পাঁচ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টি চলবে। ভারী বর্ষণে তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা নদীর জলস্তর বেড়ে নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পার্বত্য এলাকায় ধস নামতে পারে। সিকিমেও ধসের সম্ভাবনা প্রবল।
আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে, সঙ্গে ৩০–৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। শনিবার বজ্রবিদ্যুৎসহ মাঝারি বৃষ্টি হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের কিছু অংশে। রবিবার ও সোমবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কিছুটা কমবে, তবে মঙ্গলবার ও বুধবার আবারও অধিকাংশ জেলায় দু-এক পশলা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আজ শহরে আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে দু-এক পশলা বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিমি। আগামীকাল থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের মাত্রা বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তাপমাত্রা সামান্য বাড়বে, ফলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন