Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫

চাপ কাটানোর নতুন উপায় ফ্রিজ সিগারেট ! সিগারেটের বিকল্প নতুন প্রজন্মের ভরসা, কতটা স্বাস্থ্যসন্মত

 ‌

Fridge-cigarettes

সমকালীন প্রতিবেদন : সিগারেট তাও আবার ফ্রিজে রাখা যায় নাকি ? এক টুকরো আগুনেই যার জ্বলে ওঠার মূল রসদ, সে কিভাবে থাকতে পারে হীমশীতল ফ্রিজে। এতো পুরোই বিপরীত চিত্র। চিত্রটা সত্যি বিপরীত তবে সমস্যার সমাধানটা একই, চাপমুক্তি। জেন – Z মানে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তাই এখন খুবই জনপ্রিয় ফ্রিজ সিগারেট। আসুন জেনে নেওয়া যাক কি এই ফ্রিজ সিগারেট। সিগারেটের সঙ্গে এর সম্পর্কটাই বা কি ? 

নামে মিল থাকলেও, সিগারেটের সঙ্গে এর কোনো যোগ নেই। মানে এতে না আছে নিকোটিন না আছে ধোঁয়া। এর একেবারে বিপরীতে গিয়ে এ হচ্ছে ঠান্ডা পানীয়। তা ঠান্ডা পানীয় তো আগেও ছিল, তাহলে একে ফ্রিজ সিগারেট বলা হচ্ছে কেন ? তা বুঝতে হলে বিষয়টা অবশ্যই একটু তলিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। সিগারেট সাধারণত কখন সেবন করা হয় একটু ভেবে দেখেছেন ? বেশিরভাগ সময় শোনা যায় কাজের ফাঁকের একটু সময় সিগারেট হয়ে ওঠে চাপমুক্তির অন্যতম প্রধান রসদ। 

পড়াশোনা, চাকরি, সম্পর্ক সঙ্গে ভবিষ্যত চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন সামান্য বিরতি। সেখানেই হাতে উঠে যাচ্ছে অত্যন্ত ক্ষতিকারক সিগারেট। অনেকেই আবার মজা করে বলে থাকেন, প্রচন্ড চাপ থেকে মস্তিষ্ককে হালকা করতে নাকি সিগারেট খুব কার্যকরী হয়। এটি আদৌ কতটা চাপমুক্তি এবং কতটা শারীরিক অসামান্য ক্ষতির কারণ তার যুক্তি প্রশ্নাতীত। 

এবার সামান্য বিরতি আর সিগারেটের এই চাপমুক্তির জায়গাতেই ঢুকে পড়ছে ফ্রিজ সিগারেট। ফ্রিজের ঠান্ডা পানীয়। তবে তা যে সে পানীয় নয় ডায়েট কোক (অথবা যেকোনো ফিজি পানীয়)। সিগারেট ধরানো থেকে শুক টান দেওয়া এই গোটা পদ্ধতির মতোই এই ফ্রিজ সিগারেটও এক পদ্ধতিতেই চলে। যেমন ফ্রিজ খোলা, ঠান্ডা ডায়েট কোক (অথবা যেকোনো ফিজি পানীয়) নেওয়া, এটি খোলা এবং সিগারেট বিরতির জন্য নির্ধারিত একই তৃপ্তির সঙ্গে চুমুক দেওয়া।

এটি হয়ে ওঠছে নয়া প্রজন্মের কাছে সিগারেটের বিকল্প। এতে ধূমপানের কোনও জায়গা নেই, ফলে কোনও অপরাধবোধও নেই, আছে শুধু একরাশ বুদবুদ আর নিজের মনকে আবার চাঙ্গা করে তোলা। বর্তমানে একেবারে নতুন প্রজন্মের কাছে ফ্রিজ সিগারেট ট্রেন্ড করছে। মাঝেমাঝে ফ্রিজ সিগারেট নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় নানান রকমের ক্যাপশনও চোখে পড়ছে। 

ধূমপানের ভয়ঙ্কর দিকটা কারোরই অজানা নয়। তাই সেই জায়গায় ফ্রিজ সিগারেট ক্রমাগত জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় এর স্বাস্থ্যকর এবং ব্যবহারিক দিক নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। তাহলে সিগারেটের বিকল্প হিসেবে উঠে আসে জেন-Z এর কাছে এই পানীয় আদৌ কতটা সাহায্যকারী ? আসুন সেটাও জেনে নেওয়া যাক। 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক চাপ মোকাবিলা করতেই এই ফ্রিজ সিগারেটের জন্ম। অতিরিক্ত চাপের পরিবেশে এই পানীয়ের ক্যাফিন আসলে মাথা ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। সাময়িকভাবে এটি আরামদায়ক। তবে এটি অতিরিক্ত পরিমানে পান করলে কৃত্রিমভাবে মিষ্টি বা চিনিযুক্ত পানীয়ের উপর মানসিক নির্ভরতা একটা অভ্যাসে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তখন মানসিক প্রশান্তির সঙ্গে এটি সম্পৃক্ত হয়ে উঠবে। 

যদিও পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি ক্ষতিকারক নয়। তবে এটা অবশ্য মনে রাখতে হবে বেশ কিছু সময় এটি টানা ব্যবহার করলে অন্যান্য অনেক আসক্তির মতোই ক্ষতিকারক হয়ে উঠতে পারে ফ্রিজ সিগারেট। তাই সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ফ্রিজ সিগারেট বেছে নেওয়া হলে দৈনন্দিন জীবনে তার ব্যবহার রাখতে হবে সীমিত। তাহলেই এক ঢিলে দুই পাখি মারা সম্ভব।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন